কসবায় জল ফিরল, তবু বিতর্কের জলঘোলা থামল না!

কসবায় জল ফিরল! অবশেষে স্বস্তি পেল কসবার রাজডাঙার ৬০টি পরিবার। টানা ছ’দিন জলহীন থাকার পর বুধবার সকাল থেকে আবার মিলল পানীয় জল। তবে জল সংযোগ ফিরলেও বিতর্ক কিন্তু কমেনি। জল…

March 20, 2025
1 min read

কসবায় জল ফিরল!

অবশেষে স্বস্তি পেল কসবার রাজডাঙার ৬০টি পরিবার। টানা ছ’দিন জলহীন থাকার পর বুধবার সকাল থেকে আবার মিলল পানীয় জল। তবে জল সংযোগ ফিরলেও বিতর্ক কিন্তু কমেনি।

জল বন্ধের নেপথ্যে কী?

গত বৃহস্পতিবার থেকে কসবার রাজডাঙার পূর্বপাড়ার কিছু এলাকায় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় জলের সংযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি লিপিকা মান্নার নির্দেশেই জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, ওই এলাকায় তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর প্রভাব বেশি।

তবে লিপিকার পাল্টা দাবি,
“স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিল, স্কুলের পাশের দুটি পানীয় জলের কল বস্তিবাসীদের ভিড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই আমি নতুন জায়গায় কল বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছেন।”

৬০টি পরিবার কেন জলহীন?

এলাকার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষ অভিযোগ করেন,
“যাঁরা লিপিকার অনুগামী নন, তাঁদের জল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।”

স্থানীয়রা প্রথমে পুরসভায় অভিযোগ জানান, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

মেয়রের হস্তক্ষেপে সমাধান

মঙ্গলবার মেয়র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের জল বন্ধ রাখা উচিত হয়নি। তিনি বলেন,
“জলের কল বন্ধ করা একেবারেই ঠিক হয়নি। সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।”

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাস ধরে ১৬০ মিটার দীর্ঘ জলের পাইপ বসানোর কাজ চলছিল। ইতিমধ্যে ২৪টি নতুন কল বসানো হয়েছে এবং মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই সংযোগ কেটে দেওয়া চারটি কল পুনরায় চালু করা হয়েছে।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়…

যদিও জল ফিরে এল, কিন্তু এতদিন সাধারণ মানুষ কেন ভোগান্তির শিকার হলেন? স্থানীয়দের অভিযোগ,
“পানীয় জল কোনো রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে না। শুধু বিরোধিতা করার কারণে যদি জল বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী দোষ?”

তবে লিপিকা মান্না এখনও নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর দাবি,
“আমি ভালো কিছু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করা হচ্ছে।”

শেষ কথা

একদিকে ৬০টি পরিবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে, অন্যদিকে পুরসভা ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব জলঘোলা করেছে রাজনৈতিক পরিবেশ।

প্রশ্ন উঠছে— সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হবে? নাকি ভবিষ্যতে জল, বিদ্যুতের মতো পরিষেবাগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনীতি-মুক্ত রাখা হবে?

আপনার মতামত কী? জল বন্ধের সিদ্ধান্ত কি যথার্থ ছিল? 💧

পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নুসরতের সই জাল, কী বলছেন প্রযোজকরা?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *