শীতের টেবিলে রাজকীয় পাঁঠার ভিন্ডালু!
বাঙালির কষা মাংস মানেই গাঢ় রং, ঝাঁঝালো মশলা আর দীর্ঘ কষানোর ধৈর্য। সেই স্বাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সহজ নয়। তবু শীতের দিনে একঘেয়েমি ভাঙতে চাইলে, কিংবা অতিথি আপ্যায়নে নতুন কিছু আনতে চাইলে গোয়ার বিখ্যাত পাঁঠার ভিন্ডালু অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে আপনার মেনুতে। টক-ঝাল-মশলাদার এই পদে এমন এক তীব্রতা আছে, যা প্রথম কামড়েই মন কেড়ে নেবে। রুটি, পরোটা, পোলাও বা সাদা ভাত— যা-ই থাক, সবই যেন ‘সাইড ডিশ’। টেবিলের কেন্দ্রে চুম্বকের মতো থাকবে ভিন্ডালু।
ভিন্ডালুর জন্ম ইতিহাসেও স্বাদের গল্প আছে। পর্তুগিজদের হাত ধরে গোয়ায় পৌঁছেছিল ভিনেগার আর মশলার মেলবন্ধন— সেখান থেকেই ‘কার্নে দে ভিন্হা ডালোস’। সময়ের সঙ্গে শূকরের বদলে পাঁঠার মাংস, ভিনেগারের টক, শুকনো লঙ্কার রং— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আজকের ভিন্ডালু। শীতের আরামদায়ক আবহাওয়ায় এই মশলাদার পদ খেলে হাঁসফাঁস নেই— বরং জমে দ্বিগুণ।
কীভাবে বানাবেন পাঁঠার ভিন্ডালু
উপকরণ (৪ জনের জন্য):
- পাঁঠার মাংস: ৭৫০ গ্রাম
- কাশ্মীরি শুকনো লঙ্কা: ৬টি
- শুকনো লঙ্কা: ৪টি
- গোটা জিরে: ৩ চা-চামচ
- দারচিনি: ২–৩ টুকরো
- গোটা সর্ষে: ২ চা-চামচ
- লবঙ্গ: ১০টি
- গোটা গোলমরিচ: ২ চা-চামচ
- রসুন: ৮ কোয়া
- ভিনেগার: ৬ টেবিল-চামচ
- আদা-রসুন বাটা: ২ টেবিল-চামচ
- নুন (ম্যারিনেশনের জন্য): ১ চা-চামচ
- পেঁয়াজ: ৩টি, লম্বাটে কুচোনো
- তেঁতুলের ক্বাথ: ১ টেবিল-চামচ
- গুড়: দেড় টেবিল-চামচ
- গরম জল: ২০০ মিলি
- সর্ষের তেল ও নুন: প্রয়োজনমতো
প্রণালী:
১) মাংস নুন ও আদা-রসুন বাটা মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিন।
২) প্যানে অল্প তেলে শুকনো লঙ্কা, জিরে, গোলমরিচ, সর্ষে, দারচিনি, লবঙ্গ ও রসুন হালকা ভেজে ঠান্ডা করে ভিনেগার দিয়ে বেটে নিন।
৩) কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ স্বচ্ছ হলে মশলা পেস্ট দিন। তেল ছাড়া পর্যন্ত কষান।
৪) মাংস দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রাখুন। রং গাঢ় হলে তেঁতুলের ক্বাথ, গুড়, গরম জল ও নুন দিন।
৫) প্রেসার কুকারে ৪টি সিটি। চাপ নামলে ১০ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে পরিবেশন।
শীতের দুপুর হোক বা জমজমাট নৈশভোজ— এই ভিন্ডালু একবার বানালে কষা মাংসের পাশাপাশি নতুন প্রিয় হয়ে উঠবে। স্বাদে সাহসী, রন্ধনে স্মার্ট— একেবারে জমকালো!
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি