বিজেপি নেত্রীদের মামলা খারিজ হাই কোর্টে
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাল সময়। সেই মার্চ মাসে বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাখি মিত্র এবং বালিগঞ্জের প্রার্থী কেয়া ঘোষ প্রচারে বেরিয়েছিলেন মল্লিকবাজার কালীমন্দির এলাকায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন স্থানীয় কর্মী। অভিযোগ ওঠে, সেখানে তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন এবং শারীরিক নিগ্রহের শিকারও হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল ঘটনা।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে রাখিদের বিরুদ্ধেই মামলা করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা আদর্শ নির্বাচন বিধি ভেঙে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান, যার ফলে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। সেই সূত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৩ (সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি) এবং ১৮৮ (সরকারি আদেশ অমান্য) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি নিম্ন আদালতে চার্জশিটও জমা দেয় পুলিশ।
এবার সেই মামলারই নিষ্পত্তি হল হাই কোর্টে। রাখি মিত্র মামলা করেন কলকাতা হাই কোর্টে, অভিযোগ তুলে যে শাসক দলের আশ্রয়ে থাকা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ মিথ্যা মামলায় বিজেপি নেত্রী ও কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
বুধবার বিচারপতি অজয় গুপ্ত রায় ঘোষণা করে স্পষ্ট জানান, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া একেবারেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাঁর কথায়, “পুলিশ কোনও অভিযুক্তকে ডেকে জেরা করেনি, কোনও সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়নি, এমনকি প্রমাণও হাজির করতে পারেনি।” শুধু তাই নয়, চার্জশিট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত সময়সীমাও মানা হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ দেন তিনি। বিচারপতির বক্তব্য, ছ’মাসের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও পুলিশ সেই সময় পেরিয়ে গিয়ে নথি পেশ করেছে, যা আইনের পরিপন্থী।
ফলত, আদালতের মতে এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও যুক্তি নেই। রাখি মিত্র, কেয়া ঘোষ এবং অন্য বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি।
এই রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বভাবতই চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবিরে স্বস্তি দেখা দিয়েছে, কারণ তাঁদের মতে আদালতের রায় প্রমাণ করেছে পুলিশ রাজনৈতিক চাপে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছিল। অন্যদিকে, পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি নিজেও।
সব মিলিয়ে, এই মামলার রায় শুধু দুই নেত্রীর আইনি লড়াইয়ে জয় নয়, একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ