বলিউডের আলোচিত প্রযোজক কর্ণ জোহর এবং ‘সেরাম ইনস্টিটিউট’-এর কর্ণধার আদার পুনাওয়ালার মধ্যে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। সম্প্রতি জানা গেছে, আদার পুনাওয়ালা কর্ণের প্রযোজনা সংস্থা ধর্মার ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছেন। এর ফলে প্রযোজনা সংস্থার মালিকানা ও সম্পত্তির অঙ্কে দুজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হলো।
কর্ণ জোহরের প্রযোজনা সংস্থা ধর্মা এন্টারটেইনমেন্ট ১৯৭৬ সালে তার পিতা যশ জোহর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাল হো না হো’, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ প্রভৃতি সফল ছবির মাধ্যমে ধর্মা উল্লেখযোগ্য লাভ অর্জন করে। যশের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন কর্ণ, এবং এরপর থেকে তার নেতৃত্বে ধর্মা আরও বহু সফল ছবির প্রযোজনার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
কর্ণের প্রযোজনা সংস্থার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। তবে সম্প্রতি আদারের শেয়ার কেনার ফলে তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। কর্ণের কাছে বর্তমানে ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে, যা তার মোট ২৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে।
আদার পুনাওয়ালা, যিনি ভারতের ‘ভ্যাক্সিন ম্যান’ নামে পরিচিত, তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল সম্পত্তির মাধ্যমে আদার বলিপাড়ায় প্রবেশ করে কর্ণের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে গেলেন। আদারের পিতা সাইরাস পুনাওয়ালার নাম ভারতীয় ধনীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
বলিউডের বিভিন্ন সূত্রে খবর, কর্ণের শেয়ার বিক্রি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা চলছিল। মুকেশ অম্বানী এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এই শেয়ারের জন্য আগ্রহী ছিলেন। তবে, শেষ পর্যন্ত আদার পুনাওয়ালার কাছে ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।
আদার ও কর্ণের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভবিষ্যতে ধর্মাকে আরও বড় আকারে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” কর্ণের মতে, “আমরা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বিষয়বস্তু তৈরি করতে চাই। আদার আমার ভাল বন্ধু, এবং আমাদের বন্ধন আগামী দিনে নতুন সম্ভাবনাকে উন্মোচন করবে।”
তবে, এ বিষয়টি নিয়ে বলিপাড়ায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গত কিছু বছর ধরেই ধর্মা প্রযোজনা সংস্থা লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লাইগার’ ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়নি, এবং ‘গোবিন্দ নাম মেরা’, ‘সেলফি’র মতো ছবিও ব্যর্থ হয়। এই কারণে কর্ণ নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।
আদারের এই চুক্তির ফলে একদিকে যেমন ধর্মা সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে আদার পুনাওয়ালার ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। আদারের সেরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে, কর্ণ জোহর তাঁর ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে থাকেন। তিনি সম্প্রতি ‘ধর্মা ২.০’ নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বিজ্ঞাপন প্রযোজনার উদ্দেশ্যে কাজ করবে। এছাড়া, নতুন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য ‘ধর্মাটিক এন্টারটেইনমেন্ট’ বিভাগ গড়ে তোলেন এবং ২০২১ সালে নতুন প্রতিভা খোঁজার জন্য ‘ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেন।
এতসবের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, আদার পুনাওয়ালা কি কর্ণের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বদলে দিতে পারবেন? কর্ণের বাণিজ্যিক স্মৃতিতে আদার পুনাওয়ালার এ আগমন কি নতুন কোন চমক নিয়ে আসবে? সময়ই বলে দেবে, বলিপাড়ায় কেমন প্রতিযোগিতা চলতে থাকে এবং কে কি উপস্থাপন করে।
এখন দেখার বিষয়, আদার ও কর্ণের এই নতুন অংশীদারিত্ব ধর্মাকে কিভাবে নতুন দিগন্তে পৌঁছায় এবং বলিউডের এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নিজেদের মধ্যে কি নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
4o mini