করমর্দন-বিতর্কে মুখ খুললেন পাক অধিনায়ক সলমন!
গ্রুপ পর্বের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠেছিল করমর্দন না করার বিতর্ক। সেই প্রসঙ্গ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। জানালেন, পেশাদার ক্রিকেটে ১৮ বছর কাটালেও এরকম ঘটনা তিনি কখনও দেখেননি। পাশাপাশি, সতীর্থ হ্যারিস রউফ এবং সাহিবজ়াদা ফারহানের আবেগপূর্ণ উদ্যাপনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
শনিবার সংবাদমাধ্যমে সলমন বলেন, “আমি ২০০৭ সাল থেকে পেশাদার ক্রিকেট খেলছি। কিন্তু কখনও দেখিনি যে কোনও ম্যাচ শেষে দুই দল হাত মেলাচ্ছে না। আমার বাবা ক্রিকেটের বড় ভক্ত। ওঁর কাছেও অনেক গল্প শুনেছি। তিনিও কখনও বলেননি যে এমন কিছু ঘটেছে। দুই দল মাঠে লড়াই করেছে, কিন্তু হাত মেলায়নি — এমন ঘটনা আগে কখনও শুনিনি।”
তিনি আরও বলেন, “সব সময় শুনেছি, ক্রিকেট মাঠে ভদ্রতা বজায় রাখার ঐতিহ্য রয়েছে। এমনকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ ছিল, তখনও দুই দল একে অপরের সঙ্গে খেলে এবং ম্যাচ শেষে করমর্দন করেছে। আমার মতে, খেলাধুলার জগতে এমন আচরণ কোনও ভাল উদাহরণ তৈরি করে না।”
রউফ ও ফারহানের আগ্রাসী উদ্যাপন নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। তবে অধিনায়ক তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সলমনের ভাষায়, “আবেগ দেখানো প্রত্যেক খেলোয়াড়ের অধিকার। আপনি যদি একজন জোরে বোলারকে বলেন আবেগ দেখাতে পারবে না, তাহলে তার মধ্যে কী-ই বা বাকি থাকবে? যতক্ষণ না কারও অসম্মান করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমি কাউকেই আবেগ প্রকাশ করতে বাধা দেব না।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ নিয়েও খোলামেলা মত প্রকাশ করেন তিনি। সলমন বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সব সময়েই প্রচণ্ড চাপ থাকে। আমরা আগের দুই ম্যাচে নিজেদের ভুলের কারণেই হেরেছি। ফাইনালে দুই দলের উপরেই চাপ থাকবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম কী বলছে, সে দিকে আমরা মন দিই না। আমরা চাই নিজেদের খুঁটিনাটি ভুলগুলো শুধরে নিতে।”
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমও সমালোচনায় সরব। সলমন বলেন, “বাইরে কে কী বলছে, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমাদের হাতে যা আছে, সেটা নিয়েই আমরা ভাবছি। এশিয়া কাপ জেতাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।”
নিজের ব্যাটিং নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন পাক অধিনায়ক। তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, স্ট্রাইক রেটও সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে সলমন বলেন, “আমি জানি, ঠিক মতো ব্যাট করতে পারিনি। স্ট্রাইক রেটও ইচ্ছামতো হয়নি। কিন্তু সব সময় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘার করমর্দন না করার ঘটনাটি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, সেটিকে ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। এবার নিজেও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সলমন — খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, আবেগ থাকবে, কিন্তু খেলার ভদ্রতা ও সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
ফাইনালকে সামনে রেখে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই যেমন জমে উঠছে, তেমনি মাঠের বাইরের এই বিতর্কও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে কে জয়ী হয়, আর মাঠের বাইরে সম্মানের লড়াই কোথায় গিয়ে থামে।
ষষ্ঠীতেই নামছে ঝড়বৃষ্টি! পুজোর ক’দিন কেমন থাকবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া