মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন মমতা!
পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিজেপি বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসার ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee।
রাজ্যে আসছে Election Commission of India-এর ফুল বেঞ্চ। তাদের সফরের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঝড়। ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, আর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল।
বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal-এর দফতরের সামনে ধর্নায় বসে বামপন্থীরা। তাদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম অনিশ্চিত রেখে নির্বাচনের ঘোষণা করা হলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান Biman Bose জানিয়েছেন, কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন সর্বদল বৈঠক করবে, তখন এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন সিইও নিজেই।
একই ইস্যুতে সরব হয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও। Naushad Siddique-র নেতৃত্বে Indian Secular Front-এর কর্মীরাও সিইও দফতরের সামনে জমায়েত করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকার এই বিতর্ক নিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে Indian National Congress-ও।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে ধর্মতলার Metro Channel-এ ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেখানে বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ডোরিনা ক্রসিং থেকে এসপ্ল্যানেড মেট্রো গেট পর্যন্ত বিস্তৃত সেই মঞ্চ দেখে অনেকেরই ধারণা—এই আন্দোলন হয়তো একদিনে শেষ হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার এই ধর্না শুধু ভোটার তালিকার ৬০ লক্ষ নামের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও সেখানে উঠে আসতে পারে—রাজ্যপাল পদ থেকে C. V. Ananda Bose-এর আকস্মিক পদত্যাগ। তাঁর জায়গায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল R. N. Ravi-কে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, বোসের পদত্যাগের নেপথ্যে যদি কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ থেকে থাকে, তবে তা অবাক হওয়ার মতো নয়। তিনি আরও জানান, Amit Shah কেবল তাঁকে ফোন করে নতুন রাজ্যপালের দায়িত্ব সম্পর্কে জানিয়েছেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর মতামত নেওয়া হয়নি।
তবে রাজ্যে এই সময় বিজেপিও আলাদা ভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত। ১৪ মার্চ Narendra Modi-র ব্রিগেড সমাবেশকে সামনে রেখে শহরে প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছে তারা। যদিও সেই কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মেট্রো চ্যানেলে ধর্না মমতার জন্য নতুন নয়। ২০০৬ সালে Singur আন্দোলনের সময় এখানেই টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে Rajeev Kumar-কে ঘিরে সিবিআই বিতর্কের সময়ও এখানেই কয়েকদিন ধর্না দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রায় সাত বছর পর আবার সেই একই জায়গায় আন্দোলনের মঞ্চে ফিরছেন মমতা। ফলে শুক্রবারের এই ধর্না রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?