ওড়িশায় বিজেপির উত্থান ও বিজেডির সংকট: নবীন পট্টনায়কের প্রতিবাদ

ওড়িশায় বিজেপির উত্থান ও বিজেডির সংকট! ওড়িশার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলা বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবার সেই বিজেপির বিরুদ্ধেই সরব। ২০২৪…

March 12, 2025
1 min read

ওড়িশায় বিজেপির উত্থান ও বিজেডির সংকট!

ওড়িশার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলা বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবার সেই বিজেপির বিরুদ্ধেই সরব। ২০২৪ সালের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হওয়ার পর, দলীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক।

নবীনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের পরিবর্তন

গত এক দশক ধরে বিজেডি এবং বিজেপির মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা ছিল। এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক না হয়েও নবীন পট্টনায়কের দল সংসদে মোদী সরকারের বিরোধিতা করত না। কিন্তু এবার বিজেপিই নবীনের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ওড়িশার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ফলে বিজেডি নেতারা মনে করছেন, বিজেপির লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতা দখল নয়, বরং ওড়িশা থেকে বিজেডিকে পুরোপুরি উৎখাত করা।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পর্যালোচনার দাবি

এই পরিস্থিতিতে বিজেডি এখন কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে। তারা লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মধ্যে বড় ফারাক থাকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে। বিজেডি সাংসদদের অভিযোগ, ইভিএম ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের ভোটের হিসাব মেলানো হয়নি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

আজ রাজ্যসভায় বিজেডি ও তৃণমূলের সাতজন সাংসদ ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব জমা দেন। কিন্তু ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ এটি গ্রহণ না করায় তারা ওয়াক-আউট করেন। বিজেডির সাংসদ সস্মিত পাত্র অভিযোগ করেন, “বিজেপি আমাদের দলকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিজু পট্টনায়কের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মুছে দিতে চায়।”

আসন পুনর্বিন্যাস ও দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগ

বিজেডি এবার ডিএমকে এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। ডিএমকে প্রধান এম. কে. স্ট্যালিন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, লোকসভা আসনের নতুন বিন্যাসে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভুবনেশ্বরে গিয়ে নবীন পট্টনায়ককে এই কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়, এবং নবীন এতে সম্মতি জানান। ফলে, আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় বিরোধী ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে।

কংগ্রেস ও তৃণমূলের সমর্থন

বিজেডির দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেসও জানিয়েছে যে, দক্ষিণ ভারত ছাড়াও ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে আনা হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করেছেন, কারণ তিনি ডিএমকে সাংসদদের ‘অসভ্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এ নিয়ে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভে ডিএমকের সঙ্গে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।”

শেষ কথা

ওড়িশার রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের ফলে নবীন পট্টনায়কের দল কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। এতদিন বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলেও, এবার বিজেডি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিরোধীদের সঙ্গে এক হয়ে লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে যে নতুন বিরোধী ঐক্য তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *