এসটিটি বাড়িয়ে বাজেটের ধাক্কা!!
এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা ছিল অন্তত কিছুটা স্বস্তি—আয়করে ছাড়, বিনিয়োগে করছাড় কিংবা বাজারমুখী কোনও ইতিবাচক বার্তা। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ছবিই সামনে এসেছে। আয়কর ছাড় নেই, নতুন কোনও বড় প্রণোদনাও নেই। তার উপর বাজেট বক্তৃতার মাঝপথে ‘নেতিবাচক চমক’ হিসেবে হাজির হল নিরাপত্তা লেনদেন কর বা এসটিটি বৃদ্ধির ঘোষণা। আর তাতেই কার্যত রক্তাক্ত হয়ে পড়ল শেয়ার বাজার।
রবিবার সংসদে বাজেট পেশের দিনই সেনসেক্স ও নিফটি হুড়মুড়িয়ে নামতে শুরু করে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এসটিটি বাড়ানোর কথা বলতেই দালাল স্ট্রিটে বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। সেনসেক্স এক সময় ২,৩০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়, নিফটি নেমে আসে ২৪,৫৭১-এর কাছাকাছি। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে আতঙ্ক কাটেনি। ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির আশঙ্কা, এই ধাক্কার প্রভাব আগামী কয়েক দিনও টের পাওয়া যাবে।
এ বারের বাজেটে ফিউচার ও অপশন—দু’টি ক্ষেত্রেই করের বোঝা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। এত দিন ফিউচার লেনদেনে এসটিটি ছিল ০.০২ শতাংশ, যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ০.০৫ শতাংশ। অপশন লেনদেনে কর বেড়েছে আরও বেশি—০.০১ শতাংশ থেকে সরাসরি ০.১৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাড়তি করের ফলে লাভের অঙ্ক কমবে লগ্নিকারী ও ব্রোকার—দু’পক্ষেরই। স্বাভাবিক ভাবেই তার প্রতিক্রিয়া এসেছে শেয়ার বিক্রির ঢেউয়ে।
বাজেটের পর শেয়ার বাজারের পতন নিয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কটাক্ষ, এই বাজেট ‘বণিকমহলকে হতাশ করেছে’। সেনসেক্স প্রায় ১,০০০ পয়েন্ট পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ ও ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বলেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের পাওনা বকেয়া রেখেই কেন্দ্র কথার ফুলঝুরি ছড়াচ্ছে।
মধ্যবিত্তের জন্য কোনও স্পষ্ট সংস্থান না থাকায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকেও। সাংবাদিক বৈঠকে আয়কর ছাড় নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি এড়িয়ে যান নির্মলা, যা থেকে তাঁর অস্বস্তি স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের সুদ কমে যাওয়ায় বহু মধ্যবিত্ত ঝুঁকি নিয়ে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে ঢুকেছিলেন। তাঁরা আশায় ছিলেন মূলধনী লাভে কিছু ছাড় মিলবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি।
শুধু এসটিটি নয়, বাজারের অস্থিরতার আর একটি কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন মূলধনী ব্যয়ের ঘোষণাকে। ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা মূলধনী ব্যয়ের কথা বলা হলেও, কোথায় কী ভাবে এই টাকা খরচ হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা নেই। এই অনিশ্চয়তাও বাজারের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
ব্যাঙ্কিং শেয়ারেও বড় ধস নেমেছে। এসবিআই, এইচডিএফসি-র মতো বড় ব্যাঙ্কের শেয়ারের দর বাজেটের দিনই ১.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। ভোগ্যপণ্য ক্ষেত্রেও তেমন কোনও উত্থান দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য বাজেটকে ‘যুবশক্তির বাজেট’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োফার্মার মতো নতুন শিল্পে জোর দিয়ে দেশকে ‘লোকাল থেকে গ্লোবাল’-এ নিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব বাজারচিত্র বলছে, অন্তত এখনই সেই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না লগ্নিকারীরা।
সব মিলিয়ে, এসটিটি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে যে কুঠারের আঘাত পড়েছে, তার যন্ত্রণা সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ লগ্নিকারীরাই। বাজেট ঘোষণার দিনে সেই হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল দালাল স্ট্রিটের রক্তক্ষরণে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা