এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ফুকেত-দিল্লি বিমানে ৪ সেকেন্ড বিকল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা!
ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে বিমানের ‘ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার’ বা ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ব্ল্যাক বক্সের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি আচমকা উচ্চতা হারানোর সময় প্রায় ৪ সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলরন-সহ গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম কার্যত কাজ করেনি। একই সময়ে তিনটি হাইড্রলিক ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিমানের ডানার স্পয়লারগুলিও কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি।
এলিভেটর বিমানের নাক উপরে বা নীচে ওঠার গতি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্য দিকে, আইলরন বিমানের ডান-বাঁ দিকে কাত হওয়ার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হাইড্রলিক ব্যবস্থার সাহায্যে ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেক এবং বিভিন্ন ফ্লাইট কন্ট্রোল সারফেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র পরিচালিত হয়। স্পয়লার বিমানের ডানার উপরিভাগে থাকা প্যানেল, যা উড়ানের সময় লিফ্ট ও গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ফলে এই ব্যবস্থাগুলি একই সময়ে সাময়িক ভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ার ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ওই বিমানে মোট ১৩৭ জন যাত্রী এবং আট জন বিমানকর্মী ছিলেন। ঝাঁকুনির ঘটনায় অন্তত ২০ জনের বেশি যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিমানটি পরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ঘটনার সময় অটোপাইলট সিস্টেমও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বলে ডিজিসিএ-র সূত্র উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই সময় বিমানটি কো-পাইলট চালাচ্ছিলেন। ককপিটে ‘স্টল সতর্কবার্তা’ আসার পর তিনি সাইড স্টিক সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। স্টল হল এমন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি, যখন ডানা বিমানকে আকাশে ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত লিফ্ট তৈরি করতে পারে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কো-পাইলটের ওই পদক্ষেপের পরই বিমানটি নীচের দিকে নামতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাথমিক ভাবে সমস্যা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে পাইলটের আচরণ নিয়েও বিভিন্ন দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। অবতরণের পর দুই পাইলটের ডোপ পরীক্ষাও করা হয়। ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল পজ়িটিভ এসেছিল এবং পরবর্তী পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে ওই পরীক্ষার ফল বিমানের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও তদন্তাধীন।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭৯ উড়ানটি ফুকেত থেকে ওড়ার সময় কোনও সমস্যা ছিল না। পরে যাত্রাপথে আচমকা তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। ঘটনাটিকে ‘এয়ার টার্বুল্যান্স’-এর সঙ্গে যুক্ত বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল। তবে যাত্রীদের আগে থেকে সতর্ক করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পাইলটদের পদক্ষেপ—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।