“এভাবে তো পাকিস্তানের সঙ্গেই করি!”—যমুনা-সিন্ধুর জল নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানার তীব্র দ্বন্দ্বে বিস্মিত হাই কোর্ট

যমুনা-সিন্ধুর জল নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানার ! পাঞ্জাব আর হরিয়ানা—ভারতের দুটি অঙ্গরাজ্য, যারা যুগ যুগ ধরে জল, কৃষি আর সংস্কৃতির ভাগাভাগি করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্পর্কের মাঝে যেন নেমে এসেছে অশান্তির…

May 6, 2025
1 min read

যমুনা-সিন্ধুর জল নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানার !

পাঞ্জাব আর হরিয়ানা—ভারতের দুটি অঙ্গরাজ্য, যারা যুগ যুগ ধরে জল, কৃষি আর সংস্কৃতির ভাগাভাগি করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্পর্কের মাঝে যেন নেমে এসেছে অশান্তির কালো ছায়া। সিন্ধু ও যমুনার জল নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি, যা দেখে হাই কোর্ট অবাক হয়ে বলেছে, “এভাবে তো পাকিস্তানের সঙ্গেই মোকাবিলা করি!”

জল নিয়ে এমন চরম সংঘাতের ঘটনায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে ভাকরা-বিয়াস ব্যবস্থাপনা বোর্ড (BBMB)। মঙ্গলবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি শীল নাগু ও বিচারপতি সুমিত গয়ালের ডিভিশন বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই ধরনের পরিস্থিতি যেন দুই রাজ্যের মধ্যে তৈরি না হয়। আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ শত্রু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই নিয়ে থাকি!”

বস্তুত, সিন্ধুর একটি উপনদী শতদ্রুর ওপর গঠিত ভাকরা-নাঙ্গাল ড্যাম থেকেই পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পাঞ্জাব সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে পুরো সিস্টেমে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। পাঞ্জাব বিধানসভা সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা করেছে—হরিয়ানার জন্য এক ফোঁটা জলও ছাড়া হবে না। এমনকি নাঙ্গাল ড্যামের ওপর মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশও।

অন্যদিকে, বিবিএমবির আইনজীবী আদালতে বলেন, “জলাশয়গুলো উপচে পড়ছে। উজান থেকে জল না ছাড়লে ভাটির দিকের রাজ্যগুলো শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।” পাল্টা পাঞ্জাব সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, “পুলিশ মোতায়েন বা আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ রাজ্যের অধিকারভুক্ত বিষয়। বিবিএমবির এতে কিছু বলার অধিকার নেই।”

এদিকে, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার জেরে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তরফে এসেছে যুদ্ধের হুমকি। এমন এক সময়েই পাঞ্জাব-হরিয়ানার মধ্যেকার জলসঙ্কট পুরো বিষয়টিকে এনে ফেলেছে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর পরিসরে।

হাই কোর্ট সতর্ক করে বলেছে—“আজ পাঞ্জাব বলছে, কাল হিমাচলও যদি একই দাবিতে ওঠে, তাহলে তো সঙ্কট আরও গভীর হবে। বিতর্কের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”

আদালত মামলার রায় দ্রুত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও নির্দেশ আসে নি।

এই জলসংকট এখন শুধু জল নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়—এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিশ্বাস, সম্প্রীতি ও শাসনের ভারসাম্য নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *