এজবাস্টনে ইতিহাস গড়ে শুভমন গিল!
ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হয়ে গেল এক নতুন অধ্যায়— কোহলি-উত্তর যুগের যাত্রা। আর সেই নতুন পথের দিশারি হয়ে উঠছেন শুভমন গিল। এজবাস্টনের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে একক দাপট দেখিয়ে ২৬৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কৌশল, সাহস ও স্থিরতা— সব কিছুতেই যেন ফুটে উঠেছে তাঁর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন চার নম্বর এখন শুধু এক নামেই পরিচিত— শুভমন গিল।
মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ভারতের ব্যাটন এখন সঠিক হাতে। কোহলির মতো আগ্রাসী ব্যাটিং, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলা— সব কিছু মিলিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন শুভমন। এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে ৬৫ ওভারের বেশি সময় ব্যাট করে ইংরেজ বোলিংকে কার্যত ধ্বংস করে দেন। বাউন্সারে বারবার পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করলেও, প্রত্যেকটা পরিস্থিতির সামনে কেবল একটাই উত্তর— নিখুঁত ক্রিকেট।
১৯৯ রানে থাকা অবস্থায়ও ইংল্যান্ডের পেসাররা বাউন্সার ছুড়ে তাঁকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফাইন লেগে নিখুঁত পুল শটে করে ফেলেন নিজের প্রথম দ্বিশতরান। এখানেই থামেননি তিনি। ৩০ চার এবং ৩ ছক্কায় ২৬৯ রান করে গড়েন ভারতীয় অধিনায়কের দৃষ্টান্তমূলক রেকর্ড।
এই ইনিংসের আগে প্রথম টেস্টেও দ্বিশতরানের সুযোগ এসেছিল তাঁর কাছে। ১৪৭ রানে আউট হয়ে ফিরেছিলেন তখন। সেই হতাশাই যেন এবার তাঁকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, আরও মজবুত করে তুলেছিল। এজবাস্টনে একটা সময় ভারতের স্কোর ছিল ২১১/৫। তখনই দলের হাল ধরেন শুভমন ও জাডেজা। তাঁদের ২০৩ রানের জুটিতে চাপ কমে আসে, খেলা ফিরে আসে ভারতের পক্ষে।
জাডেজা আউট হওয়ার পর শুভমনের পাশে দাঁড়ান ওয়াশিংটন সুন্দর। অসাধারণ ধৈর্য্য ও বোঝাপড়ায় গড়ে ওঠে নতুন পার্টনারশিপ। শুভমন সময় পান ইনিংস গড়ার, আর সুন্দর সময় নেন দলকে ভরসা দেওয়ার জন্য। এই সমঝোতার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ভারতের ৫৭৪ রানের পাহাড়।
শুভমনের ইনিংসে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর পরিণত ব্যাটিং। ধৈর্য্য, পরিস্থিতি বুঝে খেলাকে সাজানো, আত্মবিশ্বাস— প্রত্যেকটি পর্যায়ে কোহলির উত্তরসূরি হিসাবে সামনে এসেছেন তিনি। ধারাভাষ্যকার গাওস্কর থেকে শুরু করে নাসের হুসেন পর্যন্ত সকলেই প্রশংসা করেছেন শুভমনের টেকনিক, ফোকাস ও আগ্রাসনের মিশ্রণকে।
রাত জাগলেই বাড়ছে হাঁপানির ঝুঁকি! মহিলারা সবচেয়ে বিপন্ন, কারণ লুকিয়ে হরমোন আর উদ্বেগে