পাকিস্তানের বুকের কাঁটা হয়ে উঠছে ‘সিন্ধুদেশ’!!
পাকিস্তানের অগ্নিগর্ভ সিন্ধ প্রদেশ যেন এক বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে। বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখোয়ার পর এবার সিন্ধেও স্বাধীনতার দাবিতে গর্জে উঠেছে জনতা। সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা পাক সেনার সাঁজোয়া গাড়ির কনভয় আটকে দিয়ে সরাসরি ফৌজকে “দুশমন” বলে চিহ্নিত করেছেন। তাদের স্লোগান—”কাল ছিল বাংলাদেশ, আজ হবে সিন্ধুদেশ!”
২০ মে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, সেনা সদস্যদের ঘিরে ধরে স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল সিন্ধবাসী। সেনারা জানায়, তারা সীমান্ত থেকে যুদ্ধ করে ফিরছে, জবাবে জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনকি কয়েকজন সেনাকে আটক রাখার অভিযোগও ওঠে।
সিন্ধ একটি ভৌগোলিক ও আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানেই রয়েছে করাচি বন্দর, যেটি ইসলামাবাদের সমুদ্রপথের একমাত্র ভরসা এবং দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র। তাই সিন্ধ হারালে পাকিস্তানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
সিন্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের শিকড় কিন্তু আজকের নয়। দেশভাগের কিছুদিন পর থেকেই ক্ষোভ জমে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তোলে। সেই সময় গুলাম মুর্তাজা সৈয়দের নেতৃত্বে ‘জয় সিন্ধ কওমি মাহাজ’ গঠিত হয়। আজও এই সংগঠনেরই ছায়ায় চলছে বিদ্রোহ।
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, পাক সেনা ও পাঞ্জাবি রাজনৈতিক নেতৃত্ব সিন্ধের সম্পদ লুট করছে, এবং সিন্ধি ভাষা-সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত। তারা পাক ফৌজকে ‘অবৈধ দখলদার’ বলেও চিহ্নিত করছে—একই অভিযোগ বালোচ বিদ্রোহীদেরও।
চোলিস্তান সেচ খাল প্রকল্প এই ক্ষোভে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এই প্রকল্প সিন্ধের জলসম্পদ পাঞ্জাবে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে প্রবল আপত্তি তোলে পিপিপি, যার শক্ত ঘাঁটি সিন্ধে। বিক্ষোভ এমন চরমে ওঠে যে ২১ মে প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয় জনতা। সংঘর্ষে নিহত হন দুই বিক্ষোভকারী, আহত হন ছয় পুলিশকর্মী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্ফু জারি করেও সফল হয়নি প্রশাসন। ভিডিয়োতে একে-৪৭ হাতে দেখা গিয়েছে আন্দোলনকারীদের। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকরা এই আন্দোলনের মুখ।
তবে এখানেই থেমে নেই সমস্যার গভীরতা। প্রস্তাবিত ‘সিন্ধুদেশ’-এ গুজরাতের কচ্ছ অঞ্চলের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছে কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যা ভারতের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। ভারত কখনও প্রকাশ্যে এই আন্দোলনকে সমর্থন না করলেও ইসলামাবাদের অভিযোগ—‘র’ এর সহায়তায় এই বিদ্রোহ সংগঠিত হচ্ছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের কাছে পরাজিত হয়ে ফৌজপ্রধান আসিম মুনির ফিল্ড মার্শাল হওয়ার পর জনতার ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, করাচিতে নৌবাহিনীর সদর দফতর এবং আইএসআই ও পিপিপির শক্ত উপস্থিতি সিন্ধকে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ’ হতে দেবে না এত সহজে।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!