ভালোবাসার গল্প বললেন সুমন-সৃজিত!
একই কলেজ, একই বিভাগ, একই প্যাশন। সৃজিত মুখোপাধ্যায় আর সুমন ঘোষ—দু’জনেই প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন অর্থনীতি নিয়ে। আর আজ, বাংলা সিনেমার দুনিয়ায় দু’জনেই প্রতিষ্ঠিত পরিচালক। বাংলা নববর্ষের ঠিক আগে, ১১ এপ্রিল, তাঁদের ছবি—‘পুরাতন’ আর ‘কিলবিল সোসাইটি’—একই দিনে মুক্তি পেয়ে টলিউডে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তা হলে কি এঁদের মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে? ইন্ডাস্ট্রির চাপা রেষারেষি কি এঁদের বন্ধুত্বেও ফাটল ধরিয়েছে?
সত্যিটা জানলে অবাক হবেন।
দু’জনেই আনন্দবাজার অনলাইনের সামনে অকপট। তাঁদের কথায়, এই ধরনের “বনাম” সংস্কৃতি দেখে বরং তাঁদের মন খারাপ হয়। সৃজিত হেসে বললেন, “সুমনদা আক্ষরিক অর্থেই আমার দাদা। ওর ছবি খারাপ হলে প্রথমে বকা খাই, আর ভাল হলে প্রশংসাও পাই। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সেটা কখনও রেষারেষি হয়ে দাঁড়ায়নি।”
সুমনও সেই কথার রেশ টেনে বলেন, “আমরা হয়তো দু’জনেই খুব খারাপ ছবি বানাই না!”—তাঁর কথায় মজা থাকলেও, স্পষ্ট ছিল আন্তরিকতা। একদিনে ছবি মুক্তি কি তবে কাকতালীয়? সৃজিত বলেন, “হয়তো, কিন্তু এতে কারও ক্ষতি নয়। বরং এটা প্রমাণ করে, দর্শকদের জন্য আমাদের দু’জনেরই কিছু দেওয়ার আছে।”
টলিউডের প্রতিযোগিতার কালো ছায়া
গত ডিসেম্বরে টলিউডে বেশ কয়েকটি ছবি একই দিনে মুক্তি পায়। তার পর থেকেই গুঞ্জন শুরু—কে কাকে টেক্কা দিচ্ছে, কার ছবি বেশি চলছে! সুমন বলেন, “আমি তো শহরের বাইরেই থাকি। এ ধরনের অকারণ দ্বন্দ্বের কথা শুনলে মন খারাপ হয়ে যায়। সিনেমা তো এক ধরনের শিল্প, একে প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড় করানো কি ঠিক?”
এই সময়ই পুরনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরেন সৃজিত। বলেন, “সুমনদা শুধু বড় ভাই নন, মানসিকভাবে পাশে থাকার মানুষও। একবার আমি ওঁকে জন্মদিনে রাত তিনটেয় ফোন করেছিলাম, জানতে চেয়েছিলাম, ও কি ঠিক আছে? কারণ আমার মনে হয়েছিল, উনি হয়তো মানসিকভাবে ভালো নেই।”
সুমনের জবাব ছিল আন্তরিক, “হ্যাঁ, সেদিন একটু মন খারাপই ছিল। সৃজিত বলল, ‘তুমি তো অনেক কাজ করেছ, একটু ব্রেক নাও। সবাইকে দেখাও, তুমি কী কী করে দেখিয়েছ!’ এই ভালোবাসার সম্পর্কের পরও কেউ বলবেন, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে?”
বন্ধুত্বই শক্তি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়
সৃজিত-সুমনের গল্প প্রমাণ করে দেয়—একই পেশায় থেকেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সম্ভব। সিনেমা যেমন কেবল ব্যবসা নয়, ঠিক তেমনই বন্ধুত্বের ভিতেও লুকিয়ে থাকে সৃজনশীলতার উৎস।
যাঁরা ভাবছেন, একসঙ্গে ছবি মুক্তি মানেই দ্বন্দ্ব—তাঁদের জন্য এই দুই পরিচালকের গল্প এক রকম চপেটাঘাত। কারণ শেষ পর্যন্ত শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তার সৃষ্টির মধ্যেই—not তার প্রতিযোগিতায়।
অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, আর ইউসুফ পঠান ‘ফুরফুরে চা’-এ মশগুল! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা