এককালের ‘দাপুটে’ সিভিক এখন জেলে দিনমজুর!
যে সিভিক ভলান্টিয়ার একদিন পুলিশের স্টিকার লাগানো বাইকে চড়ে শহরের বড় বড় হাসপাতালে দাপিয়ে বেড়াতেন, তিনিই এখন জেলে বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন মাত্র ৮০ টাকা দৈনিক মজুরিতে। আরজি কর হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের জীবন এখন সম্পূর্ণ অন্য ছন্দে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। তদন্ত শেষে চার্জশিটে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে তাঁর নাম উল্লেখ করে সংস্থা। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। তারপর থেকে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ৬ নম্বর সেলেই কাটছে তাঁর দিনরাত্রি।
জেল সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয় বর্তমানে বাগানের কাজ করছেন। সকাল-বিকেল গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাস কাটা, গাছপালা পরিষ্কার করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। এর জন্য তিনি প্রতিদিন পান ৮০ টাকা। এই অর্থ সরাসরি ঢুকছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তবে নিয়ম অনুযায়ী, সেই মজুরির ৫০ শতাংশ তিনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে পারেন। বাকিটা পরিবারকে পাঠাতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে অথবা কারাবাস শেষে পুরো টাকাই হাতে পাবেন।
সঞ্জয়ের কাজের দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জেলের তরফে। ভবিষ্যতে ‘সেমি স্কিল্ড’ বা ‘স্কিল্ড’ বিভাগে উন্নীত হলে তাঁর মজুরি ৯০ বা ১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে আপাতত তিনি ‘আনস্কিল্ড’ হিসেবেই কাজ করছেন। জেলের নিয়ম অনুযায়ী, আচরণ ও কাজের ভিত্তিতে সাজা কিছুটা কমার সম্ভাবনাও থাকে।
জেল জীবনের শুরুটা সঞ্জয়ের জন্য সহজ ছিল না। প্রথমদিকে তিনি অত্যন্ত মনমরা থাকতেন, কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। বাইরের জীবনে পুলিশ ব্যারাকে থাকার সুযোগ, উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ, অনুপযুক্ত বাইক ব্যবহার— এসব তাঁকে একরকম ‘প্রভাবশালী’ করে তুলেছিল। সেই জীবনের এক রাতেই পতন ঘটে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রভাব বিস্মৃত হয়ে আজ তিনি অনেকটাই ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছেন। নিজের কাজে মন দিয়েছেন, অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। বাগানে গিয়ে নিজের সময় কাটান।
আপাতত হাই কোর্টে কোনও আবেদন জমা পড়েনি সঞ্জয়ের পক্ষ থেকে। তবে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাঁরা উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
একদিন যে সঞ্জয় ছিলেন পুলিশের ছত্রছায়ায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ এক সিভিক, আজ তিনি শুধুমাত্র এক দোষী। বাইকের বদলে হাতে কোদাল, আর পুলিশ ব্যারাকের জায়গায় তাঁর ঠিকানা এখন প্রেসিডেন্সি জেলের সেল নম্বর ৬। বদলে যাওয়া এই জীবনের প্রতিটি দিনই যেন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে— ক্ষমতার অপব্যবহার আর এক চরম ভুল, জীবনকে কীভাবে একেবারে উল্টে দিতে পারে।
“শাহরুখ আসলে খুবই মধ্যবিত্ত মানুষ” — বলিউডের বাদশাহর এমন গুণ দেখে মুগ্ধ পরিচালক অনুভব সিন্হা