ঋণের ফাঁদে পাকিস্তান!
চরম আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত Pakistan আবারও ঋণ শোধ করতে নতুন ঋণের পথেই হাঁটছে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি হঠাৎ করে তাদের দেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ ফেরত চাওয়ায় চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ।
প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দ্রুত শোধ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ, প্রায় ২০০ কোটি ডলার, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই মেটাতে হবে। এত বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে শোধ করলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে বলেই আশঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প অর্থের সন্ধানে China এবং Saudi Arabia-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তান। অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেব জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক উৎস থেকে অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন ঋণের আলোচনা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
🌍 কেন বাড়ছে চাপ?
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণ শোধ করলে দেশের রিজার্ভ প্রায় ১৮% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
🏦 আইএমএফের শর্তও চাপ বাড়াচ্ছে
International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর ঋণ কর্মসূচির অধীনে থাকায় পাকিস্তানকে নিয়মিতভাবে বৈদেশিক অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হয়। এই বিশাল ঋণ পরিশোধ ভবিষ্যতে আইএমএফের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
🔄 ‘ঋণ শোধে ঋণ’—পুরনো চক্রই জারি
পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ‘রোলওভার’ বা ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সেই পথ না নিয়ে সরাসরি টাকা ফেরত চাইছে। ফলে ইসলামাবাদের সামনে বিকল্প খুব সীমিত।
💡 নতুন পথ খুঁজছে সরকার
এই সঙ্কট সামলাতে পাকিস্তান কয়েকটি কৌশল ভাবছে—
- ইসলামিক বন্ড বা ‘সুকুক’ ইস্যু
- আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরোবন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা
- চিনা ‘পান্ডা বন্ড’ থেকে অর্থ সংগ্রহ
- বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা
⚠️ ভবিষ্যৎ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন এক কঠিন চক্রে আটকে—ঋণ শোধ করতে আবার ঋণ নেওয়া। এতে স্বল্পমেয়াদে সমস্যা মেটানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে এই ঋণের বোঝা সামলে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?