ট্রাম্প–ভিয়েতনাম সাফল্যের বিপরীতে নয়াদিল্লির কঠিন ‘লক্ষ্মণরেখা’
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভিয়েতনামের সঙ্গে একটি ‘ডাল-ভাত’ চুক্তি সম্পন্ন করেছে—ভিয়েতনামের পণ্য সামান্য শুল্ক (২০%) মেনে নিল, সার্ভিসিং পণ্য ট্রানজিটে ৪০% শুল্ক বসালো এবং একইসঙ্গে আমেরিকার পণ্য ভিয়েতনামে শুল্কবিহীন প্রবেশের সুবিধা পাওয়া যাবে । এই প্রথম, ভিয়েতনাম আমেরিকার দশটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের একটি হিসেবে উঠে এসেছে।
এর আগেই যুক্তরাজ্য এবং চীনের সঙ্গে ঋণাত্মক সময়ে অস্থায়ী চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু ভারতের সঙ্গে এখনো লটার খোলা নেই । দিল্লি–ওয়াশিংটনের ব্যবসায় আলোচনাগুলো একাধিক ক্ষেত্রে আটকে রয়েছে, বিশেষ করে চারটি “লক্ষ্মণরেখা” বা নীতিগত সীমার কারণে: ভুট্টা, ইথানল, সয়াবিন এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য—যেগুলোতে ভারতের উচ্চ শুল্ক রয়েছে বা পুরোপুরি সীমাবদ্ধতা আছে, যা আমেরিকান বাজার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করছে ।
১. ভুট্টা:
- আমেরিকা ভুট্টার বৃহৎ রফতানিকারক।
- ভারত আমদানি করলে ৫০০ কেজি পর্যন্ত ১৫%, তার বেশি হলে ৫০% শুল্ক দিয়ে থাকে। জিনগত পরিবর্তিত দানার (জিএমও) আমদানি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ।
২. ইথানল:
- আমেরিকার ইথানল রফতানি ৪৩০ কোটি ডলারেরও বেশি।
- ভারতে বিকল্প আমদানি করা যায় শিল্প, ঔষধ বা পানীয় তৈরিতে, কিন্তু জ্বালানির কাজে ব্যবহারে নিষেধ আছে ।
৩. সয়াবিন:
- আমেরিকান সয়াবিন রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়।
- ভারতে কাঁচা জিএমও সয়াবিন নিষিদ্ধ, যদিও তেল (জিএমও ছাড়াই) আমদানি করা যায় ।
৪. দুগ্ধজাত দ্রব্য:
- চিজে ৩০%, মাখনে ৪০%, মিল্ক পাউডারে ৬০% শুল্ক।
- ভারতীয় শিল্পের জন্য রক্ষা দেওয়ার নীতি রয়েছে ।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের মতে, “ভারতে কৃষি ও দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না” । এ ছাড়া, আমেরিকার অন্য চুক্তি যেমন ভিয়েতনামের তুলনায় এখনো ভারতের সঙ্গে এগোতেই হয়নি, এবং বার্তা স্পষ্ট—জটিলতা ও রাজনীতির কারণে রফা বাকী।
চূড়ান্ত কথা:
— ভিয়েতনাম–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আমেরিকার শুল্ক হ্রাস (৪৬% → ২০%) এবং ভিয়েতনামে আমদানি শুল্ক মুক্তি পাওয়া গেছে ।
— ভারত–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ‘চতুর্মুখী সীমাবদ্ধতা’ এখনও ক্লিয়ার হয়নি ।
— ভারতের বিহারসহ নির্বাচন সামনে, তাই আঞ্চলিক চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে ।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে—ভিয়েতনাম চুক্তি মার্কিন ডলার স্থিতিশীল করে তুলেছে এবং ইউরোপ–এশিয়া বাজারে উৎসাহ বাড়িয়েছে । তবে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি রূপে আবির্ভূত হতে এখনও রাস্তা অনেক দূর। আগামী দিনগুলোতে ফেবারিক প্রস্তুত—ভোট, রফা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই হবে।
রাত জাগলেই বাড়ছে হাঁপানির ঝুঁকি! মহিলারা সবচেয়ে বিপন্ন, কারণ লুকিয়ে হরমোন আর উদ্বেগে