মণিপুরে চলমান অশান্তি ও অচলাবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের কিছু বিজেপি বিধায়ক। তাদের দাবি, রাজ্যের পরিস্থিতির উত্তরণে মুখ্যমন্ত্রীর যে পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয় এবং রাজ্যের সমস্যাগুলির গভীরে পৌঁছানো হয়নি। আসলে, মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বিধায়ক, যারা অভিযোগ করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
গত সোমবার, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ একটি বৈঠক আহ্বান করেন, যেখানে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার কথা ছিল। তবে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ১১ জন বিধায়ক। তাদের মধ্যে কয়েকজন শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি, কিন্তু অন্যরা কোনও নির্দিষ্ট কারণ দেখাননি। এমনকি যারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে একাধিক বিজেপি বিধায়ক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
একজন বিধায়কের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যে বৈঠকটি আহ্বান করেছিলেন, তা যথাযথ নয়। তিনি বলেন, ‘‘বীরেন দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৈঠক ডেকেছেন, কিন্তু এই বৈঠকে যৌথ বাহিনী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সিআরপিএফ এবং আসাম রাইফেলের কর্মকর্তাদের ডাকতে পারতেন। অথচ, বিধায়কদের বৈঠকে ডেকে কী লাভ?’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘বৈঠকে মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও প্রস্তাবও পাশ করা হয়নি।’’
এছাড়া, অন্য একজন বিধায়ক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ভাল নয়, আর এই কারণেই পরিস্থিতি এত দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।’’ তার মতে, দুই পক্ষকে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে বসানো ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। এই বিধায়ক আরও জানিয়েছেন, আগে অনেক বৈঠক হয়েছে, তবে কখনও বিধায়কদের মতামত চাওয়া হয়নি এবং সেই বৈঠকগুলির ছবি মিডিয়ায় শেয়ার করা হলেও বাস্তবে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মণিপুরে চলমান সংঘর্ষের কারণ হিসেবে কুকি জঙ্গি ও সিআরপিএফ জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি অন্যতম। এই পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকজন কুকি জঙ্গি মেইতেই সম্প্রদায়ের তিন মহিলা এবং তিন শিশুকে অপহরণ করে। পরে তাদের দেহ উদ্ধার হলেও, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, অপহৃতদের দেহ নদীতে ভেসে এসেছে এবং তার পর থেকেই মণিপুরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেখানে জনগণ অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করছে।
মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টির পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কেরা সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন ‘আফস্পা’ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেই রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
মণিপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিদিন নতুন রূপ নিচ্ছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অশান্তির জন্য মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপির বিধায়করা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে তারা জনগণের পরামর্শ নিয়ে নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।