উত্তরকাশীতে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধ্বংস!
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধরালী গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্যোগ। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা নামা হড়পা বানে তছনছ হয়ে গেল গোটা এলাকা। প্রবল জলের তোড়ে গ্রাম ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভেসে গেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, কমপক্ষে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন এখনও নিখোঁজ।
গ্রামবাসীদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১০-১২ জন আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধার কাজ চলছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয় ধরালী গ্রামের কাছে ক্ষীরগঙ্গা নদীর উচ্চভাগে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নদীর জল হঠাৎই ফুলে ফেঁপে ওঠে, এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে গ্রামের উপর। মাত্র কয়েক মিনিটেই গ্রাম ভাসিয়ে দেয় সেই জলরাশি। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর এবং ভাঙা কাঠামোর স্রোত গড়িয়ে পড়ে নিচের দিকে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ধরালীতে থাকা অন্তত ২০-২৫টি হোটেল ও হোমস্টেও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে জল ধেয়ে এসে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও সেই ভিডিওগুলোর সত্যতা এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।
উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের (ITBP) সদস্যদের। ITBP-র ১৬ জন প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, পরে সেনার পক্ষ থেকেও ১৫০ জনের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সেনার একটি ক্যাম্প হরসিলে থাকায়, তা থেকে মাত্র ৪ কিমি দূরের ধরালিতে দ্রুত পৌঁছন সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫-২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেনার ক্যাম্পেই চলছে।
বিপর্যয়ের পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে ITBP-র তিনটি এবং NDRF-এর চারটি দল মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তর ভারতের হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে গত কয়েকদিন ধরেই টানা ভারী বৃষ্টি চলছে। দেহরাদূন ও হরিদ্বার-সহ একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই বিপদসীমা ছুঁয়েছে নদীর জলস্তর। হরিদ্বারে গঙ্গা এবং কালীগঙ্গা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সোমবার দেহরাদূনে সব স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়।
ধরালীতে মেঘভাঙা বৃষ্টির কিছু পরেই সুখী টপেও একই ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। যদিও সেখানে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টির ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হচ্ছে। চারধাম যাত্রার অন্যতম গন্তব্য গঙ্গোত্রীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু বদলে গেছে ধরালিতে। এখন একটাই লক্ষ্য—নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং জীবিতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
প্রোটিন খেয়ে মেদ ঝরাতে গিয়ে বেড়ে যেতে পারে ওজন, কোন ভুলে এমন হতে পারে?