সিইও দফতরের বাইরে নিরাপত্তার বলয়!
কলকাতার প্রশাসনিক চত্বরে মঙ্গলবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বুধবার সকালেই বদলে গেল দৃশ্য। West Bengal CEO Office-এর সামনে আর কোনও জমায়েত নেই ঠিকই, কিন্তু চোখে পড়ার মতো কড়া নিরাপত্তা। গোটা এলাকা জুড়ে ব্যারিকেড, মোতায়েন বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী—সব মিলিয়ে যেন এক নিরাপত্তার দুর্গ।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে। আচমকাই স্ট্র্যান্ড রোডে সিইও অফিসের সামনে হাজির হন তৃণমূলপন্থী বেশ কয়েক জন বিএলও। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ জমা দিতে কিছু লোক অফিসে ঢুকেছেন। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি কর্মীরাও। দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে দ্রুত উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। দুই পক্ষকে আলাদা রাখতে ব্যারিকেড বসানো হয়। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও উত্তেজনা কমেনি, বরং একাধিকবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে গোটা এলাকা কার্যত অস্থির হয়ে পড়ে।
তবে বুধবার সকাল থেকে ছবিটা অনেকটাই বদলে যায়। কোনও বিক্ষোভ বা জমায়েত চোখে না পড়লেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিইও দফতরের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কিছু দুষ্কৃতীকে নিয়ে বেলেঘাটার এক কাউন্সিলর সেখানে জড়ো হয়েছিলেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে—এই ধরনের আইনভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
এর আগেই রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে কোনও গণ্ডগোল হলে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন নিজেও হস্তক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রাতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। সূত্রের খবর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের অশান্তির পর বুধবারের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটাই বার্তা দিচ্ছে—নির্বাচনের আগে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। প্রশাসন এখন আরও সতর্ক, যাতে ভোটের পরিবেশ শান্ত ও স্বচ্ছ থাকে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না