উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার নেপথ্যে জবাব খোঁজে যে কমলা বাক্স!
‘ব্ল্যাক বক্স’— নাম শুনলেই এক রহস্যময় যন্ত্রের কথা মনে আসে। অথচ এর রং কালো নয়, কমলা! বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এই যন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি অহমদাবাদে ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া AI-171 দুর্ঘটনার পরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এই ব্ল্যাক বক্স।
১২ জুন, ২০২৫— অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়েই ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী AI-171। ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে একমাত্র জীবিত থাকেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। বাকি সকলের মৃত্যু হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা, তা জানতে এখন ভরসা সেই ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর ওপর।
কী এই ব্ল্যাক বক্স?
ব্ল্যাক বক্স হল আসলে দুটি যন্ত্রের সমন্বয়—
১. ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR)
২. ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR)
CVR পাইলট, সহ-পাইলট ও বিমানের অন্যান্য শব্দ যেমন রেডিয়ো সংকেত, ইঞ্জিনের গর্জন রেকর্ড করে। এতে পাইলটের প্রতিক্রিয়া, সিদ্ধান্ত এবং বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে কথোপকথন পাওয়া যায়। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় ঠিক কী ঘটেছিল।
FDR বিমানের গতি, উচ্চতা, ডানার অবস্থান, বায়ুচাপ, ইঞ্জিন পারফরম্যান্স সহ হাজারটির বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে। এমনকি বিমানের ভিতরের তাপমাত্রা, ধোঁয়া সঙ্কেত সবই রেকর্ড হয়।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ব্ল্যাক বক্স ছাড়া বড় কোনও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা প্রায় অসম্ভব। এই যন্ত্রই দেয় দুর্ঘটনার সময় বিমানে কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত ছবি— যা থেকে তৈরি হয় কম্পিউটার অ্যানিমেশনও। তাই, একে বলা হয় বিমানের “স্মৃতির ডায়েরি”।
কী দিয়ে তৈরি হয়?
ব্ল্যাক বক্স বানানো হয় টাইটানিয়াম বা স্টেনলেস স্টিল দিয়ে। এই যন্ত্র:
- ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সহ্য করতে পারে
- ২০ ফুট অবধি জলে ডুবে থাকলেও কাজ করতে পারে
- দুর্ঘটনার ধাক্কায় ৩৪০০ গি-ফোর্স পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে
যন্ত্রটির রং কমলা হয় যাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এটি সমুদ্রেও সঙ্কেত পাঠায়— ১৪,০০০ ফুট গভীর থেকেও।
কোথায় থাকে?
CVR থাকে ককপিটে, আর FDR বিমানের পেছনের দিকে। কারণ দুর্ঘটনার সময় পেছনের অংশ বেশি অক্ষত থাকার সম্ভাবনা থাকে।
প্রথম ব্ল্যাক বক্স কোথা থেকে এল?
অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী ডেভিড ওয়ারেন ১৯৫৩ সালে প্রথম এই ধারণা দেন। ১৯৫৬ সালে তাঁরই তৈরি প্রোটোটাইপ পরে বিশ্বের সব বিমানে বাধ্যতামূলক হয়। আজ সেটি আরও উন্নত, আরও নির্ভরযোগ্য।
সবসময় কি তথ্য মেলে?
না। কিছু ঘটনায় ব্ল্যাক বক্স থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না। যেমন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্যাঙ্কক-দক্ষিণ কোরিয়া ফ্লাইটে দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাক বক্স ছিল ঠিকঠাক, কিন্তু কার্যকর তথ্য মেলেনি।
ভারতে সম্প্রতি দিল্লিতে ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক ল্যাব খোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
পাকা আমের স্বাদে অন্য রূপ! রুটির সঙ্গে জমবে এই ঝটপট আমের তরকারি