উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে বিপাকে পড়ুয়ারা!
উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকি, অথচ এখনও বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের বই পৌঁছায়নি স্কুলে! শুধু তাই নয়, বাজারেও নেই কোনো সহায়ক বই, ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা।
কেন এত দেরি?
আগামী বছর সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে, যেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার মিলিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে। ফলে, তৃতীয় সেমিস্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হলেও বাংলা ও ইংরেজির পাঠ্যবই না পাওয়ায় পড়ুয়ারা প্রস্তুতি নিতে পারছে না। সাধারণত অন্যান্য বিষয়ে বেসরকারি প্রকাশকদের বই পাওয়া যায়, কিন্তু বাংলা ও ইংরেজির বই শিক্ষা দপ্তর সরবরাহ করে বিনামূল্যে। এবার সেই বইগুলিও স্কুলে এসে পৌঁছায়নি।
সহায়ক বইও নেই! কী হবে প্রস্তুতি?
বাংলা-ইংরেজির সহায়ক বইও পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ এবার পাঠ্যক্রমে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সঠিক পরিবর্তন কী তা জানা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ মূল পাঠ্যবই এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিভ্রান্ত।
একজন শিক্ষক বলেন,
“বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের বই কিছুটা দেরিতে এলেও সহায়ক বইয়ের মাধ্যমে পড়াশোনা করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলা-ইংরেজির সহায়ক বইও নেই! আমরা পড়াব কী?”
কীভাবে বাজারে আসে বেসরকারি বই?
যে সমস্ত বই বেসরকারি প্রকাশকেরা প্রকাশ করেন, তাদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞদের যাচাই শেষে “টিবি নম্বর” (টেক্সট বুক নম্বর) দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্যই অনেক সময় বাজারে বই আসতে দেরি হয়।
কিন্তু বাংলা ও ইংরেজির বই সরকারের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। তাই এত দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই, এমনটাই মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
শিক্ষকদের জন্য আলাদা বই নেই!
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, শিক্ষকদের জন্য আলাদা বই সরবরাহ করা হয় না। সাধারণত স্কুলে যত ছাত্রছাত্রী আছে, ঠিক ততগুলি বই পাঠানো হয়। ফলে, শিক্ষকরা নিজস্ব কোনো বই না পাওয়ায় পড়ানোর ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন।
শিক্ষা সংসদের প্রতিশ্রুতি
এই প্রসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান,
“এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাংলা ও ইংরেজির বই স্কুলে পাঠানো হবে। যদি কোনো স্কুলের শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত বই প্রয়োজন হয়, তাহলে লিখিতভাবে জানালেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিন্তু ততদিনে পড়ুয়াদের প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে চিন্তিত ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা।
উচ্চ মাধ্যমিকের আগে কী সমাধান মিলবে?
এখন প্রশ্ন একটাই— উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি কীভাবে এগিয়ে যাবে, যদি মূল পাঠ্যবই-ই না পাওয়া যায়? শিক্ষা দপ্তর বলছে, শিগগিরই বই পৌঁছে দেওয়া হবে, কিন্তু ততদিনে পড়ুয়ারা অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে না তো?
শেষ কথা
উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন সেমিস্টার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই, তার উপর যদি প্রয়োজনীয় বই সময়মতো না আসে, তাহলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত শিক্ষা দপ্তর এই সমস্যার সমাধান করতে পারে! 📚🎓
পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নুসরতের সই জাল, কী বলছেন প্রযোজকরা?