ইরানে আবার ভূমিকম্প!
ইরানে আবার ভূমিকম্প। তবে শুধু ভূকম্পন বলেই কি থামছে আলোচনা? মোটেই নয়। ভূমিকম্পের গভীরতা, এলাকা এবং সময়কে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এটি প্রকৃতির খেয়াল, না কি গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে তেহরান?
গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের কেরমান প্রদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। আমেরিকা ও জার্মানির ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলি জানায়, এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের মাত্রা ও গভীরতা, উভয়ই সন্দেহের অবকাশ তৈরি করেছে। কারণ এই এলাকাটি কাকতালীয়ভাবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি—যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র এবং অস্ত্র মজুতের কেন্দ্রে রয়েছে বলে খবর।
এর আগে, ঠিক দেড় মাস আগে ইরানের উত্তরের সেমনান এলাকাতেও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সেখানেও ছিল সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স। দুটি ভূকম্পনেই মিল পাওয়া যাচ্ছে—উভয় ক্ষেত্রেই কেন্দ্রস্থল ছিল এমন এলাকায়, যেখানে ইরানের পরমাণু ও সামরিক কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে চলতে দেখা গেছে।
মাটির নিচেই রহস্য?
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, সাধারণ ভূমিকম্প এবং পরমাণু বিস্ফোরণজনিত কম্পনের মধ্যে ফারাক করা যায়—যদি বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়। পরমাণু পরীক্ষার ক্ষেত্রে মাটির নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে টেকটোনিক শক্তি বিকিরিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরণের বিস্ফোরণ ভূমিকম্পের মতোই অনুভূত হয়, কিন্তু এর ধরন আলাদা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইরানের বিরুদ্ধে এই ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে পরমাণু পরীক্ষার সরাসরি অভিযোগ আনেনি।
ভূমিকম্পপ্রবণ ইরান, তবু প্রশ্ন রয়েই যায়
ইরান এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। আরব এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর সেখানে প্রায় ২,১০০টি ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরমান বা সেমনানের মতো এলাকা ঘন ঘন কম্পিত হলে এবং সেই জায়গাগুলি যদি সেনা ঘাঁটি বা ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রের আশপাশে হয়, তাহলে সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও ঘনীভূত
সম্প্রতি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জুন মাসে ইজরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ও পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। পরে আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমানও হামলা চালায় ইরানের পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে। এর পরপরই দেশের অভ্যন্তরে পরপর ভূমিকম্পের ঘটনা নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ অনেকেই।
প্রোটিন খেয়ে মেদ ঝরাতে গিয়ে বেড়ে যেতে পারে ওজন, কোন ভুলে এমন হতে পারে?