ইরানের প্রতিবাদী দুই ফুটবলারের নতুন ঠিকানা অস্ট্রেলিয়া, নাগরিকত্ব পেলেন পসন্দিদেহ ও রামেজ়ানিসেদেহ

ইরানের প্রতিবাদী দুই ফুটবলারের নতুন ঠিকানা অস্ট্রেলিয়া footজাতীয় মহিলা ফুটবল দলের দুই সদস্য ফতেমেহ পসন্দিদেহ ও আতেফহ রামেজ়ানিসেদেহকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী স্বাধীনতার পক্ষে সরব হওয়া এবং ইরান…

August 7, 2026
1 min read

ইরানের প্রতিবাদী দুই ফুটবলারের নতুন ঠিকানা অস্ট্রেলিয়া

footজাতীয় মহিলা ফুটবল দলের দুই সদস্য ফতেমেহ পসন্দিদেহ ও আতেফহ রামেজ়ানিসেদেহকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী স্বাধীনতার পক্ষে সরব হওয়া এবং ইরান সরকারের সমালোচনা করার পর দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁদের। সেই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন দুই ফুটবলার। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

গত মার্চে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানানোর পর ব্রিসবেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাঁদের নাগরিকত্বের শপথবাক্য পাঠ করান। এই সিদ্ধান্তকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পেলেন দুই ক্রীড়াবিদ।

নাগরিকত্ব পাওয়ার পর রামেজ়ানিসেদেহ বলেন, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জন্মভূমি ইরানকে কখনও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময় অটুট থাকবে।

একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন পসন্দিদেহও। তাঁর কথায়, বহু প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের পর এই স্বীকৃতি পাওয়া জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে নিরাপদ পরিবেশে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ মিলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত এ বছরের মহিলাদের এশিয়া কাপ চলাকালীন। টুর্নামেন্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন পসন্দিদেহ ও রামেজ়ানিসেদেহ। নারী অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে তাঁদের অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেতে শুরু করেন। দেশে ফিরলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করে তাঁরা অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ও প্রথম থেকেই তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়া সরকার দ্রুত তাঁদের আবেদন অনুমোদন করে। বর্তমানে দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার ফুটবল লিগ ‘এ-লিগ’-এর ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ার্সের হয়ে খেলছেন এবং সেখানেই নিজেদের নতুন কেরিয়ার গড়ে তুলছেন।

এই ঘটনাকে শুধু দুই ফুটবলারের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারী অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *