সাধ্বী প্রেম বাইসার আকস্মিক মৃত্যু!
পশ্চিম রাজস্থানের গ্রামীণ অঞ্চলে যাঁর কণ্ঠে ধর্মকথা আর ভজন শুনতে ভিড় জমাত মানুষ, সেই তরুণী সাধ্বী প্রেম বাইসার মৃত্যু এখন ঘনীভূত রহস্যের আবরণে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ শুধু শোকই নয়, জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্নের। ইনজেকশন, একটি ভাইরাল সমাজমাধ্যম পোস্ট আর অতীতের বিতর্ক—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
গত ২৮ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রেমকে জোধপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মস্তিষ্কের ‘মৃত্যু’ ঘটে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর দু’দিন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। সেই দিন আশ্রমে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে ডেকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশনের পরই প্রেম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শরীরে প্রাণের কোনও লক্ষণ ছিল না। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ এমডিএম হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলা হয়। তবে প্রথমে পরিবার মৃতদেহ আশ্রমে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার মোড় ঘোরে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রেমের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। সেখানে লেখা ছিল, তিনি সনাতন ধর্মের প্রচারে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং মৃত্যুর পর ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস রাখেন। পোস্টের শেষ লাইনে ছিল—“আমি চিরতরে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি।” এই লেখাকেই অনেকেই ‘ডিজিটাল সুইসাইড নোট’ বলে দাবি করছেন।
ভক্তদের একাংশের প্রশ্ন, যদি প্রেম তখন মৃত হন, তবে এই পোস্ট এল কীভাবে? কারা তাঁর অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন? পোস্টটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল, না কি অন্য কেউ আপলোড করেছেন—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হ্যাকিং বা ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রেম বাইসার জীবনও কম আলোচনার ছিল না। বালোতরা জেলার পারেউ গ্রামের বাসিন্দা প্রেম ছোট বয়স থেকেই আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। বাবার কাছ থেকেই দীক্ষা নিয়ে ধর্মীয় গল্পকথা ও ভজন গাওয়া শুরু করেন। পরে জোধপুরে নিজের আশ্রম গড়ে তোলেন, যেখানে বাবা ও গুরু—দু’টি ভূমিকাতেই ছিলেন বীরমনাথ বাইসা।
ছ’মাস আগে একটি পুরনো ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ভিডিয়োতে এক পুরুষকে আলিঙ্গন করতে দেখা গিয়েছিল প্রেমকে। পরে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই ব্যক্তি তাঁর বাবা। অভিযোগ ওঠে, ভিডিওটি ইচ্ছাকৃত ভাবে সম্পাদনা করে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতারও করা হয়।
এই সব বিতর্ক তাঁর মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মৃত্যুর পর আশ্রমে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। সকলের একটাই দাবি—সাধ্বী প্রেম বাইসার মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রহস্যের জট খুলবে তদন্তেই—এখন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা