আর্থিক টানাপড়েনে পাকিস্তান ক্রিকেট!
পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আর্থিক সঙ্কটের ছবি সামনে এল। Pakistan Super League-এর একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে Pakistan Cricket Board (পিসিবি)। অভিযোগ, অংশগ্রহণ বাবদ বোর্ডের প্রাপ্য বিপুল অঙ্কের টাকা এখনও মেটানো হয়নি। দ্রুত বকেয়া না মেটালে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাসিত করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকটি দল গত মরসুমের ফি-ও এখনও পরিশোধ করেনি। সেই কারণেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। পিসিবির বক্তব্য, নিয়ম মেনে লিগ চালাতে হলে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির আর্থিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।
তবে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন দলমালিকেরাও। তাঁদের দাবি, বোর্ডের কাছে কোনও বকেয়া নেই। বরং লিগের আয় থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির যে লভ্যাংশ পাওয়ার কথা, সেটাই এখনও আটকে রেখেছে পিসিবি। সেই বকেয়া অর্থের পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি তাঁদের।
এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে বোর্ড। পিসিবির বক্তব্য, গত বছরের প্রতিযোগিতা চলাকালীনই দলগুলির কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার পাওনা ছিল। সেই অর্থ এখনও সম্পূর্ণ মেটেনি। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির পাল্টা দাবি “ভিত্তিহীন” বলেই মনে করছে বোর্ড।
সমস্যা শুধু দলগুলিকে ঘিরেই নয়। সম্প্রচারকারী সংস্থার কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করতে পারেনি পিসিবি। বোর্ডের দাবি, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫৪ কোটি টাকার বকেয়া এখনও মেলেনি। যে সংস্থা সম্প্রচারের দায়িত্বে রয়েছে, তাদের সঙ্গে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে চাপ আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন, লিগ পরিচালনা এবং সম্প্রচার স্বত্ব— সব ক্ষেত্রেই পিসিবিকে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তার মধ্যেই পিএসএলের দলগুলির সঙ্গে এই প্রকাশ্য সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ক্রিকেটমহলের একাংশের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে লিগের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ— দুইয়ের উপরেই প্রভাব পড়তে পারে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা