আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের রেফারিদের জন্য ফিফার বিশেষ বিধি!
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রেফারিদের ভূমিকাও আলোচনার কেন্দ্রে। একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে এবার ম্যাচ পরিচালনায় অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়েছে ফিফা। সেই কারণেই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের রেফারিদের একে অপরের দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে ইংল্যান্ড যদি কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তবে আর্জেন্টিনার রেফারিরা সেই ম্যাচ পরিচালনা করবেন না। একইভাবে লিয়োনেল মেসিদের আর্জেন্টিনা পরের পর্বে উঠলেও ইংল্যান্ডের রেফারিরা তাঁদের ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন না।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করেছিল। প্রায় ৭৪ দিন ধরে চলা সংঘর্ষে শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন জয়ী হয়। যুদ্ধে প্রাণ হারান শত শত সেনা এবং কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। সেই সংঘাত দুই দেশের সম্পর্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
ফুটবল মাঠেও সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন বহুবার দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং তাঁর অসাধারণ একক প্রচেষ্টার গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
এই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই ম্যাচ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চায় ফিফা। সংস্থার লক্ষ্য, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বিরোধ যেন কোনওভাবেই ম্যাচের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রশ্ন না ওঠে।
এবারের বিশ্বকাপে তাই রেফারি নির্বাচনেও বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা একই নকআউট ব্র্যাকেটে থাকায় তাঁদের দেশের রেফারিদের সেই অংশের কোনও ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। পরিবর্তে তাঁরা অন্য ব্র্যাকেটের ম্যাচ, যেমন ফ্রান্স, মরক্কো, স্পেন বা বেলজিয়ামের খেলায় দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু এই দুই দেশই নয়, ফিফা প্রতিটি নকআউট ম্যাচের জন্য এমন রেফারিদের বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাঁদের দেশের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির কোনও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিরোধ নেই। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে নিরপেক্ষতা নিয়ে যাতে কোনও বিতর্ক না তৈরি হয়, সেটাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?