আরজি কর মামলায় পরিবারের আবেদন খারিজ!
আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। শুক্রবার শিয়ালদহ আদালত নির্যাতিতার পরিবারের একাধিক আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিচারকের পর্যবেক্ষণ— মামলার তদন্তের গতি সন্তোষজনক নয়, তা বেশ ধীর বলেই মনে হচ্ছে।
আদালতের স্পষ্ট বার্তা
পরিবারের তরফে বেশ কয়েক জনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এবং আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারেন।
তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কাকে হেফাজতে রাখা হবে বা কাকে জেরা করা হবে— সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তদন্তকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক রাখা আইনসম্মত নয় বলেই মন্তব্য করেন বিচারক।
সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
মামলার তদন্ত করছে Central Bureau of Investigation। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও স্পষ্ট হয়নি এবং তদন্তের গতি অত্যন্ত ধীর। আদালতও পরোক্ষে সেই বিষয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিচারকের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক জন গ্রেফতার হলেও এখনও তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট জমা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
পরিবারের অভিযোগ কী?
পরিবারের আইনজীবীরা আদালতে একাধিক দাবি তুলেছিলেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে ছিল—
- নির্দিষ্ট কিছু পুলিশকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদন্তের আওতায় আনা
- অভিযুক্তদের পলিগ্রাফ পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ
- ঘটনার রাতে যাঁদের সঙ্গে নির্যাতিতাকে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের জেরা বা গ্রেফতার
কিন্তু বিচারক সব আবেদনই আপাতত খারিজ করে দিয়েছেন।
মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি ভবনে ওই চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ, পরে Calcutta High Court-এর নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
এই মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে ধরা হয় সিভিক ভলান্টিয়ার Sanjay Roy-কে। নিম্ন আদালত ইতিমধ্যেই তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
তদন্তে টানাপোড়েন
পরিবারের দাবি, এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি— কে বা কারা এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে, কেন কিছু তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, কেন নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জেরা করা হয়নি— এসব নিয়েই তাঁদের ক্ষোভ।
অন্যদিকে সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের পদ্ধতি এবং কাকে ডাকা হবে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এমনকি তারা পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও তুলেছে।
সামনে কী?
এই মামলায় এখনও চূড়ান্ত সত্য সামনে আসেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট— তদন্তের গতি বাড়ানো জরুরি। এখন দেখার, পরবর্তী শুনানিতে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।
এক কথায়, বিচারপ্রক্রিয়া চলছে— কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের কাছে ন্যায়বিচারের পথ এখনও অনেকটাই দীর্ঘ।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই