আরজি কর কাণ্ড: নির্যাতিতার বাবা-মাকে আক্রমণে মদন মিত্র, বিতর্কে সরগরম রাজনীতি

আরজি কর কাণ্ড আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিত ও নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি প্রশ্ন তুললেন, "ওরা কি টাকা চায়?" শুধু তাই…

January 29, 2025
1 min read

আরজি কর কাণ্ড

আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিত ও নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি প্রশ্ন তুললেন, “ওরা কি টাকা চায়?” শুধু তাই নয়, তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “বাবা-মা রাজনীতিতে যোগ দিতে চাইলে আসন খুঁজতে পারেন, তবে জিততে পারবেন না!”

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, “টাকা দিলে আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন?” পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় বলেন, “লজ্জা রাখার জায়গা নেই! বাংলার মানুষ কবে ঘুম থেকে জাগবে, তার অপেক্ষায় আছে নির্যাতিতা ডাক্তার-বোনের আত্মা।”

শাসক দলের একাধিক নেতার আক্রমণ

মদন মিত্রের সঙ্গে গলা মিলিয়ে নির্যাতিতার বাবা-মাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শাসক দলের প্রবীণ নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, নির্যাতিতার পরিবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চিত্রনাট্য বদল করছে।

মদন মিত্র বলেন, “স্পষ্ট করে বলুন, আপনারা টাকা চান? ডাক্তারদের জন্য চার-পাঁচ কোটি টাকা উঠেছিল, শুনেছি। সব কিছু টাকা দিয়েই ঢাকা যায়!” তিনি আরও বলেন, “আমরা তো পড়েছি, শ্রাদ্ধে কিছু দিতে পারলে ভালো, না পারলে টাকা দিয়ে দিলেই চলে! ঠিক তেমনই, যদি টাকা চান, বলুন স্পষ্ট করে!”

তিনি আরও দাবি করেন, “নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা এখন অন্যায়ের মদতকারী হয়ে উঠেছেন। তাঁরা ক্ষতিপূরণ বা সুবিধা পাওয়ার জন্য চিত্রনাট্য বদলাচ্ছেন!”

নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিক্রিয়া

এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, “আমরা কোনো চক্রান্তে পা দিইনি। উনি (মদন) এসে দেখে যান, আমরা কীভাবে আছি! আর যদি টাকা নিয়েই সব হয়, তাহলে বলুন, কত টাকা দিলে আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন?”

মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও মদনের কটাক্ষ

নির্যাতিতার বাবা-মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার জবাবে মদন মিত্র পাল্টা বলেন, “বিচারক রায় দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেননি। বরং, মুখ্যমন্ত্রী ফাঁসির আবেদন করেছেন। আর সেটা নস্যাৎ করতে এসেছেন সিপিএমের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য, যিনি একজন ‘প্রমাণিত মিথ্যেবাদী’!”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি ফাঁসি চান না বা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকেন, তাহলে রাজনীতিতে যোগ দিন! অনেক আসন ফাঁকা আছে, দাঁড়িয়ে যান! তবে জিততে পারবেন না, চান্স নেই!”

বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

শাসক দলের এই আক্রমণের বিরুদ্ধে বিজেপি, সিপিএম, এবং কংগ্রেস একসঙ্গে সরব হয়েছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে বাবা-মা মেয়েকে হারিয়ে বিচার চাইছেন, ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন কুৎসিত আক্রমণ! শোভনদেবের মতো বর্ষীয়ান নেতাও তাতে শামিল হচ্ছেন! বাংলার রাজনীতির কতটা অধঃপতন হলে এটা সম্ভব?”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে যদি পুলিশ থাকত, মদন মিত্রদের মতো লোকজনের জায়গা জেলেই হত!”

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “মদন মিত্রর এসব কথা বলার সময় ওনার নিজের মেয়ে পিয়ালীর কথা মনে পড়েছিল কি না?” তিনি আরও বলেন, “প্রথমে আরজি করের চিকিৎসককে খুন করা হল, এবার তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শাসক দল বাবাকে ভয় দেখাচ্ছে!”

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “এঁরা জনপ্রতিনিধি? দুর্নীতি ও অপরাধের মদতদাতা মুখ্যমন্ত্রীর স্বার্থরক্ষা করতেই আজ এই নোংরা রাজনীতি করছেন!”

আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া

সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য, যাঁকে মদন ‘প্রমাণিত মিথ্যেবাদী’ বলেছেন, তিনি পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “ওঁরা যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন, সেখানে সভ্য-ভদ্র আচরণ আশা করা যায় না। ওঁদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি গুন্ডামি, দুর্নীতি আর ক্ষমতার দম্ভ!”

উপসংহার

আরজি কর কাণ্ড এখন আর শুধুই এক চিকিৎসকের মৃত্যুর তদন্ত নয়, তা এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাকে আক্রমণ শানিয়ে শাসক দলের নেতারা আরও বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিতর্ক কি ন্যায়বিচারের পথকে আরও জটিল করবে, নাকি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল রণকৌশল বদলাবে? একমাত্র সময়ই দিতে পারে তার উত্তর।

ত্রিবেণী সঙ্গম থেকে পুণ্যার্থীদের সরাতে কঠোর পদক্ষেপ, ঘোড়সওয়ার পুলিশ নামাল যোগী সরকার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *