আয়োডিনের পর দুধে ভিটামিন!!
এক সময় আয়োডিন মেশানো নুন বদলে দিয়েছিল জনস্বাস্থ্যের ছবি। এ বার ঠিক তেমনই এক সাহসী পথে হাঁটতে চলেছে কানাডা। আমজনতার স্বাস্থ্য ফেরাতে গোদুগ্ধের চরিত্রই বদলে ফেলতে চাইছে ‘ম্যাপল পাতার দেশ’। সরকারের পরিকল্পনা— দুধ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি-র মাত্রা দ্বিগুণ করা। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ দুধকে এমন ‘ভিটামিন বোমা’ বানানোর দরকার কেন?
কানাডা সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি অর্থানুকূল্যে এই প্রকল্পের গবেষণা শুরু হয়েছে। লক্ষ্য একটাই— সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমেই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি মেটানো। স্বাদ, গন্ধ বা রঙ— কোনও কিছুর পরিবর্তন হবে না, বদলাবে শুধু পুষ্টিগুণ।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কানাডার কঠিন বাস্তবতা। বছরের বড় একটা সময় দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে। শীতকালে সূর্যের দেখা মেলে খুব কম। অথচ মানবদেহে ভিটামিন ডি তৈরির সবচেয়ে বড় উৎসই হল সূর্যালোক। ত্বকে থাকা ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল সূর্যের আলো পেলে ভিটামিন ডি৩-তে বদলে যায়। কিন্তু দীর্ঘ শীত, মোটা পোশাক আর ঘন তুষারপাত— এই প্রক্রিয়াটাই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় কানাডায়।
এর ফল ভয়াবহ। সমীক্ষা বলছে, শীতকালে প্রায় ৪০ শতাংশ কানাডাবাসীর শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকে। গ্রীষ্মে তা কিছুটা কমে ২৫ শতাংশে নামলেও সমস্যার সমাধান হয় না। বিশেষ করে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ— প্রায় ৫৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী ভিটামিন ডি-র অভাবে ভুগছেন। হাড় দুর্বল হওয়া, পেশির ক্ষয়, অবসাদ— সব কিছুর ঝুঁকিই বাড়ছে।
এই অবস্থায় সরকার মনে করছে, খাদ্যাভাস বদলানো বাস্তবসম্মত নয়। তাই এমন খাবারকেই আরও পুষ্টিকর করা হচ্ছে, যা প্রায় সবাই প্রতিদিন খান— দুধ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোদুগ্ধে ভিটামিন ডি৩ (কোলেক্যালসিফেরল) মেশানো হবে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায়। ভিটামিন ডি যেহেতু চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই দুধের গঠনে কোনও ক্ষতি না করেই এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
কানাডা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “দুধ এমনিতেই সুষম খাবার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটুকু যথেষ্ট নয়। তাই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি বাড়িয়ে তবেই বাজারে আনা হবে।” এই পুরো প্রক্রিয়ার উপর সরকারের কড়া নজর থাকবে, যাতে দুধে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া না ঘটে।
গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ভাবে তৈরি ভিটামিন ডি-র মধ্যে গুণগত কোনও পার্থক্য নেই। তাই এই সিদ্ধান্তকে অবৈজ্ঞানিক বলা যায় না। তবে একটি আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে— এর জেরে দুধের দাম বাড়তে পারে।
তবু ইতিহাস বলছে, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনে। ১৯২৪ সালে আয়োডিনযুক্ত নুন যেমন বিশ্বজুড়ে রোগ কমিয়েছিল, তেমনই কানাডার এই ‘ভিটামিন দুধ’ হয়তো আগামী দিনে নতুন পথ দেখাবে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা