পাকিস্তান থেকে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে বললেন বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম!
প্রায় ২১ দিন অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর চোখের জল—সব কিছু পেরিয়ে ফিরে এলেন রিষড়ার বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ। পাকিস্তানে ভুলবশত প্রবেশ করে পাক রেঞ্জার্সের হাতে ধরা পড়ার পর, অবশেষে বুধবার অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন তিনি। আর ফিরেই স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে হাসিমুখে বললেন, “টেনশন কোরো না, আমি ঠিক আছি… দাড়ি কেটে নিতে হবে।”
২৩ এপ্রিল পঞ্জাবের পঠানকোটে কর্মরত অবস্থায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঠিক পরদিনই, কাজের ক্লান্তিতে গাছতলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন পূর্ণম, সেই সময় ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন। সেখানেই পাক রেঞ্জার্স তাঁকে ধরে ফেলে। এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’-এর মাধ্যমে দ্রুত জওয়ানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, বাড়ে উদ্বেগ।
এই সময়টায় সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন পূর্ণমের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজনী। হুগলি থেকে ছুটে গিয়েছিলেন হিমাচলের কাংড়ায়, গিয়েছিলেন বিএসএফের দফতরে, স্বামীর কর্মস্থলে। প্রতিটি দিন পার করেছেন অনিদ্রা আর উৎকণ্ঠায়। কিন্তু বুধবার সকালটা ছিল অন্যরকম—বাক্যহীন এক আনন্দে ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। চোখে জল নিয়ে বললেন, “ভিডিয়ো কলে কথা বলল ও। মুখভর্তি দাড়ি, বলল—‘টেনশন কোরো না, আমি ঠিক আছি। দাড়ি কাটতে হবে। পরে ফোন করছি।’”
এই ঘটনায় পাশে থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফোন করে রজনীর সঙ্গে কথা বলেন, আশ্বস্ত করেন তাঁকে এবং পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন। রজনীর কথায়, “উনি নিজে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। বললেন চিন্তা না করতে।”
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর পঠানকোটে পৌঁছে মেডিক্যাল চেকআপ করিয়েছেন পূর্ণম। এরপর নিজের কর্মস্থলে ফিরে সেখান থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন। রজনী জানান, “ও জিজ্ঞেস করছিল ছেলেকে নিয়ে। বললাম বাইরে গেছে। আমার ফোনও খারাপ হয়ে গেছে, তাই বললাম আমি শ্রীরামপুর থেকে হয়ে আসছি। তখন বলল, ‘দাড়ি বড় হয়ে গেছে, শেভ করে খেয়ে নিই, তারপর ৩টের সময় আবার ফোন করব।’”
পূর্ণমের মুক্তির খবরে রিষড়ার বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ। প্রতিবেশীরা ভিড় করেছেন, পরিবারের সদস্যদের চোখে স্বস্তির জল। রজনী আবেগে ভেসে বলেন, “আমার সিঁদুর ফিরে এসেছে। দেশ আমার পাশে ছিল। সকলকে ধন্যবাদ জানাই। জয় হিন্দ, জয় ভারত!”
এই ফিরে আসা শুধু একজন জওয়ানের নয়—এ যেন একটি পরিবারের আশ্বাসে ফিরে পাওয়া শান্তি, একটি মায়ের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, আর একটি দেশের জন্য নিঃশব্দে লড়াই করে ফেরা একজন প্রকৃত সৈনিকের জয়।
পাকিস্তানি ভাইবোনদের উদ্দেশে রণবীরের পোস্ট কেন মুছলেন? বিতর্কের মধ্যে সাফাই দিলেন অভিনেতা