আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ফিফা!
দু’গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে। নাটকীয় এই হারের পর ক্ষোভ চেপে রাখলেন না দলের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে তিনি রেফারিং, ভিএআর এবং ফিফার ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। এমনকি তাঁর দাবি, লিয়োনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিশরের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে হাসান বলেন, “আমি কারও মন জোগাতে আসিনি। যা মনে হয়েছে, সেটাই বলছি। আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা গভীর অবিচারের শিকার। ম্যাচের ফল মাঠের ফুটবলে নয়, অন্যভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।”
মিশরের মূল আপত্তি আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে একটি বিতর্কিত মুহূর্ত ঘিরে। তাদের দাবি, বক্সের ভিতরে হামদি ফাতিকে ফাউল করেছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই ঘটনায় পেনাল্টি দেওয়ার পরিবর্তে খেলা চালিয়ে যেতে দেন রেফারি। ভিএআর থেকেও কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
এছাড়া মিশরের একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনাতেও ভিএআর যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা স্পষ্ট দেখেছি আমাদের ফুটবলারের জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল। তবু সেই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনারও প্রয়োজন মনে করা হয়নি। ফেয়ার প্লে কোথায়?”
রেফারির পারফরম্যান্স নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হাসানের দাবি, ম্যাচের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মিশরের বিপক্ষে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “রেফারি নিরপেক্ষ ছিলেন না। মনে হয়েছে, তিনি আমাদের জিততে দিতে চাননি। এই ম্যাচ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য আসে ফিফাকে ঘিরে। হাসানের অভিযোগ, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং বিশেষ করে লিয়োনেল মেসিকে আরও এগিয়ে রাখার অদৃশ্য চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে চাওয়া হচ্ছে। হয়তো মেসিকে আরও কিছু দিন বিশ্বকাপে দেখতে চায় কেউ। ফুটবলে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে শুধু মাঠের খেলায় জেতা কঠিন।”
হতাশা এতটাই প্রবল যে, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ আর দেখবেন না বলেও ঘোষণা করেছেন মিশরের কোচ। তাঁর কথায়, “এই টুর্নামেন্টের আর কোনও ম্যাচ দেখতে চাই না। ফলাফল বা খবরও রাখতে চাই না। এটাই আমার প্রতিবাদের ভাষা।”
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হাসানের এই অভিযোগগুলির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন প্রমাণ বা ফিফার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সামনে আসেনি। ফলে তাঁর মন্তব্য বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও, বিষয়টি এখন পুরোপুরি অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?