আভিজিৎ সরকার হত্যা মামলা!
২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার এক মর্মান্তিক অধ্যায় ছিল বিজেপি কর্মী আভিজিৎ সরকারের হত্যাকাণ্ড। সেই সময়েই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা বেলগাছিয়া এলাকা। ঘটনার তিন বছর পর, সেই মামলায় অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ মোড়—কলকাতা পুলিশের তিন কর্মীকে সিবিআই জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
কী ঘটেছিল ২০২১ সালে?
তিন বছর আগে, ২০২১ সালের মে মাসে ভোটের ফলপ্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক হিংসা। উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া এলাকাও বাদ যায়নি। সেদিনই প্রকাশ্যে খুন হন বিজেপি কর্মী আভিজিৎ সরকার। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, আভিজিতের উপর হামলা চালানো হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই হাতে নেয় তদন্তের দায়িত্ব। ধীরে ধীরে উঠে আসে এমন কিছু তথ্য, যা প্রশাসনের অন্দরেও নাড়িয়ে দেয় চিত্র।
পুলিশের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের অভিযোগ কী?
সিবিআই জানিয়েছে, ওই ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মী—সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর তপন বাগ, কনস্টেবল শঙ্কর দে ও রমেন দে—তদন্তে সহযোগিতা তো করেনইনি, উল্টে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। বরং তাঁদের কার্যকলাপেই প্রশ্ন উঠেছে—তাঁরা কি ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধীদের আড়াল করছিলেন?
সিবিআই-এর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তদন্তের স্বার্থে এই তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন, কারণ তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও বহু তথ্য লুকোচ্ছেন। আদালত সেই যুক্তি মেনেই তাঁদের ৫ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুক্রবার আদালতে সিবিআইয়ের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হয়। তাতে বলা হয়, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীরা শুধু নিষ্ক্রিয় ছিলেন না, বরং দায়িত্বে থেকেও আইন মেনে কাজ করেননি। সিবিআই জানিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা না হলে পুরো ষড়যন্ত্র উন্মোচন করা সম্ভব নয়।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি ছিল, আভিজিৎ শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়, পুলিশি প্রশ্রয়ে খুন হয়েছিলেন। এখন আদালতের নির্দেশ সেই দাবিরই ন্যায্যতা প্রমাণ করছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা।
আভিজিৎ সরকারের ভাই বিশাল সরকার বলেন, “তিন বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের ভাইয়ের আত্মা অন্তত কিছুটা শান্তি পাবে। আমরা চাই, যারাই দোষী, তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।”
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর থেকেই একাধিকবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রথমবার কোনও পুলিশ কর্মীকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হল। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আরও কেউ কি এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন? তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছবে কিনা, তা সময়ই বলবে।
উপসংহার
আভিজিৎ সরকার হত্যা মামলা একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরের ত্রুটি সামনে এনেছে। যাঁরা আইন রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরাই যদি আইনের ধারায় আস্থা না রাখেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এখন সবার চোখ সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই মামলায় ন্যায়বিচার সত্যিই সম্পূর্ণ হবে কিনা, সেটাই দেখার।
বিশ্বে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, রাশিয়া থেকে কিনে ভারতে স্থিতিশীলতা!