আবার আদালতের নোটিস! ক্ষুব্ধ রিয়া চক্রবর্তী!
সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পর নানা টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার শেষে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। ভেবেছিলেন, শেষমেশ সব সমস্যার অবসান ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফের মুম্বই আদালতের তরফে তাঁর নামে এসেছে নোটিস—এবং তাতেই যেন আবার পুরনো ক্ষত তাজা হয়ে উঠেছে।
এই নোটিস কিন্তু কোনও নতুন মামলার নয়। রিয়ার নিজেই করা এক পুরনো অভিযোগের সূত্র ধরেই আদালত তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে। সুশান্তের মৃত্যুর পর রিয়া অভিযোগ করেছিলেন, অভিনেতার দুই দিদি প্রিয়াঙ্কা ও মিতু সিংহ এবং চিকিৎসক তরুণ নাথু রাম অভিনেতার মানসিক চিকিৎসায় গাফিলতি করেছেন। রিয়ার দাবি ছিল, সুশান্ত বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছিলেন, কিন্তু তাঁর দিদিরা সেই অবস্থায়ও ওষুধ বন্ধ করে দিতেন কিংবা মেসেজের মাধ্যমে ওষুধ জোগাড় করতেন, এমনকি কখনও কখনও প্রেসক্রিপশনও জাল করা হতো।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত তদন্ত শুরু করে। কিন্তু নতুন নোটিসে জানানো হয়েছে, রিয়ার অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই আবার তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনার কয়েক দিন পরেই জনসমক্ষে একেবারে অন্য রূপে দেখা গেল রিয়াকে। মুম্বইয়ের রাস্তায় ছবিশিকারিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশে মুখে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, ঠিক যেমনটা এখন প্রায়ই তারকাদের করতে হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ফটোসাংবাদিকরা যখন তাঁকে অনুসরণ করতে থাকেন, তখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন রিয়া।
রীতিমতো চটে গিয়ে ছবিশিকারিদের উদ্দেশে বলে বসেন, “আর আমার পিছনে আসবেন না। একার ছবি হয়ে গিয়েছে। এবার বিদায় দিন।” তাঁর এই হঠাৎ রেগে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরায়, আর তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রিয়ার এই ব্যবহার অনেক নেটাগরিকের মন জিততে পারেনি। কেউ কেউ ফটোগ্রাফারদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “এই মেয়ের পেছনে পড়ে সময় নষ্ট কেন করছেন?” আবার কেউ কেউ বুঝতে পারছেন রিয়ার মানসিক অবস্থা, তাঁদের বক্তব্য—প্রতিনিয়ত একের পর এক আইনি চাপ, ট্রোলিং আর ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষত তাঁকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে।
আবারও আইনি টানাপড়েনের মুখে পড়া রিয়া এই মুহূর্তে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন—তাঁর ধৈর্যের বাঁধ এবার টুটছে। তিনি চেয়েছিলেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, কিন্তু যেন বারবার অতীতের ছায়া তাঁকে গ্রাস করে নিচ্ছে।
এখন দেখার, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, আর রিয়া কীভাবে এই নতুন চাপ সামলে ফের নিজেকে সামলে নিতে পারেন।
সুনামির আতঙ্কে থমকে নেই লিভারপুলের জাপান সফর, মারিয়ানোসের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ