দেশে ফিরে গেলেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার
শ্রীলঙ্কার তরুণ স্পিনার দুনিথ ওয়েল্লালাগের জন্য বৃহস্পতিবারটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের এক দুঃসংবাদ পেয়েছেন। ম্যাচ চলাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ বছর বয়সে মারা যান তাঁর বাবা, সুরঙ্গ ওয়েল্লালাগ।
ওয়েল্লালাগে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন মাহিশ থিকসানার পরিবর্তে। কিন্তু খেলার সময়ে তাঁকে এই দুঃসংবাদ জানানো হয়নি। মাঠে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁর মনোযোগ একমাত্র খেলায় ছিল। খেলা শেষ হওয়ার পর, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর শ্রীলঙ্কা দলের ম্যানেজার তাঁকে অবগত করেন বাবার মৃত্যুর খবরের সঙ্গে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েল্লালাগের মনোভাব ও চেহারা বলছিল—হৃদয় বিধ্বস্ত।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্পিনার বৃহস্পতিবার রাতেই শ্রীলঙ্কায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আবেদন করেন পরিবারের সঙ্গে থাকতে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কর্তারা তাঁর আবেদন অনুমোদন করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ওয়েল্লালাগের বাবা নিজেও একজন ক্রিকেটার ছিলেন। ফলে ক্রিকেটের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্কও তার জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলিতে দুনিথ অংশ নেবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরই খেলায় পুনরায় যোগ দেবেন কিনা তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তাঁকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হবে না। যদি তিনি খেলা চালাতে না চান, তাহলে তার জায়গায় বিকল্প খেলোয়াড়ের ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারে।
শ্রীলঙ্কার সামনে এশিয়া কাপে অন্তত আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। সুপার ফোর পর্বে প্রথম ম্যাচ ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে, দ্বিতীয় ম্যাচ ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং তৃতীয় ম্যাচ ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে। যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তবে চারটি ম্যাচ খেলতে হবে।
ম্যাচের মাঝেই এই দুঃসংবাদ পাওয়ায় খেলোয়াড়ের মানসিক চাপে থাকা স্বাভাবিক। দলের সহকর্মীরা এবং ক্রিকেট কর্তৃপক্ষও তাঁর পাশে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর মানসিক স্বস্তি এবং শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে।
অতএব, দুনিথ ওয়েল্লালাগের পরিস্থিতি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দুঃখের নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা দেয়—খেলোয়াড়রাও সাধারণ মানুষ, তাদের জন্য পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট বোর্ড এবং দলের সমর্থন সেই মানবিক দিকটি গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার মধ্যেই দুঃসংবাদ পাওয়ার পরও দায়িত্বশীল ও শক্তি ধরে রাখার জন্য ধন্যবাদ জানানো যায় তরুণ স্পিনারকে। এখন তাঁর পরিবার ও নিজের জন্য সময় নেওয়াই প্রধান।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ