আদানি: রাহুলকে দেশদ্রোহী বলে খোঁচা বিজেপির

আদানি রাহুলকে দেশদ্রোহী বলে খোঁচা আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য লোকসভার মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুলের বিরুদ্ধে…

December 6, 2024
1 min read

আদানি রাহুলকে দেশদ্রোহী বলে খোঁচা

আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য লোকসভার মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি আমেরিকার ধনকুবের জর্জ সোরোসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংসদে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে দলীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র রাহুলকে ‘সবথেকে সেরা বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আক্রমণ করেন। এই আক্রমণের পর, লোকসভা ফের অচল হয়ে যায়। কংগ্রেস দাবি করে যে, নিশিকান্ত দুবে সুষ্ঠু আলোচনা না করে কেবল অপপ্রচার করছেন এবং তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি, সম্বিত পাত্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও তুলেছে কংগ্রেস।

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে, কংগ্রেস ও বেশিরভাগ বিরোধী দল আদানি ঘুষ কাণ্ড নিয়ে তদন্তের দাবিতে সংসদে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে, মঙ্গলবার থেকে কংগ্রেসের আন্দোলন সংসদের ভিতরে না গিয়ে বাইরে বিক্ষোভে রূপ নেয়। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা সংসদের বাইরে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে গোটা চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। প্রত্যেকের পোশাকের পিছনে ‘মোদী আদানি এক হ্যায়, আদানি সেফ হ্যায়’ লেখা স্টিকার ছিল। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী স্লোগান তোলেন, “এয়ারপোর্ট দেখো, আদানি। বিজলি দেখো, আদানি। পোর্ট দেখো, আদানি।” তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সমস্ত লজ্জা ত্যাগ করে আদানির দুর্নীতি আড়াল করছেন।’’ রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, ‘‘মোদীজি আদানিজির বিরুদ্ধে তদন্ত করাতে পারবেন না, কারণ, তদন্ত করলে সেটা তার নিজের বিরুদ্ধে হবে।’’

এর পরেই, লোকসভায় ‘জিরো আওয়ার’-এ বিজেপির নিশিকান্ত দুবে বলেন, ফরাসি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, আমেরিকার ধনকুবের জর্জ সোরোস আদানির বিরুদ্ধে গড়ে তোলা অভিযোগের পিছনে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ‘‘ওসিসিআরপি (অর্গানাইজ়ড ক্রাইম অ্যান্ড কোরাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট) এই বিষয়ে রিপোর্ট করেছে, যেখানে আদানি, পেগাসাস এবং কোভিডের টিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ওঠে।’’ নিশিকান্ত আরও বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংসদে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে, কারণ তাদের স্বার্থ জড়িত।’’ এই মন্তব্যের পর কংগ্রেস নেতারা সমালোচনা করেন এবং নিশিকান্তকে ক্ষমা চাইতে বলেন। কংগ্রেসের দাবি, যখনই রাহুল গান্ধী মোদী-আদানি আঁতাঁতের কথা বলেন, তখনই বিজেপির ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ মন্তব্য করেন, ‘‘বিজেপির মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর স্লিপার সেল রয়েছে, যারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করতে সবসময় সক্রিয় থাকে।’’

এদিকে, কংগ্রেসের আন্দোলন নতুন মাত্রা নিয়েছে এবং বিরোধীরা আদানি কাণ্ডে সরকারকে তীব্র ভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিজেপি, বিশেষত সম্বিত পাত্র এবং নিশিকান্ত দুবে, রাহুল গান্ধীকে দেশদ্রোহী এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আক্রমণ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। এ ধরনের তীব্র আক্রমণের ফলে সংসদের কার্যক্রম আরো অচল হয়ে পড়ে, এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হতে থাকে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *