গান ঘিরে বিতর্কে কী বললেন রাজকুমার রাও
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে মুখ খোলার পর নতুন বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। বহু বছর আগে ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ শীর্ষক প্রচারমূলক গানে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক নেটাগরিক। সেই সমালোচনার জবাবে রাজকুমারের একটি মন্তব্য ঘিরেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও পরে তিনি সেই মন্তব্যটি মুছে দেন।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে। দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলেন রাজকুমার। সেই পোস্টের মন্তব্য বিভাগে এক নেটাগরিক অভিনেতার অতীতের একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ প্রচারমূলক গানে অংশ নিয়ে রাজকুমার নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছিলেন।
ওই নেটাগরিক লেখেন, এক সময় রাজকুমারের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেই ধারণা বদলে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে রাজকুমারকে আদর্শ হিসেবে দেখতেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে গিয়েছে।
এই মন্তব্যের জবাবে রাজকুমার একটি দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া লিখেছিলেন। যদিও কিছু সময়ের মধ্যেই সেটি মুছে ফেলেন। তবে তার আগেই সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্যে রাজকুমার লিখেছিলেন, “আমি কখনও নিজের আত্মা বিক্রি করতে পারি না। একটি গান দিয়ে আমার আদর্শ, বিশ্বাস বা আমি কেমন মানুষ, তা বিচার করা যায় না। আপনি কখনও সেই চাপটা বুঝতে পারবেন না। আমি সব সময় সঠিক বিষয়ের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি এবং মানুষের ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমার বিবেক পরিষ্কার থাকলেই আমি সন্তুষ্ট। যাঁরা আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন, তাঁরা জানেন আমি কেমন মানুষ। আশা করি, এক দিন আবার আপনার শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারব। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।”
এই মন্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে— “আপনি কখনও সেই চাপটা বুঝতে পারবেন না।” অনেকেরই অনুমান, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ গানে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গেই তিনি এই ‘চাপ’-এর কথা বলতে চেয়েছেন। তবে অভিনেতা কোথাও স্পষ্ট করে বলেননি, সেই চাপের উৎস কী ছিল বা তাঁকে কোনও রকম বাধ্য করা হয়েছিল কি না।
ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও রাজকুমারের মন্তব্যে সরাসরি এমন কোনও দাবি নেই যে, তাঁকে জোর করে ওই প্রচারমূলক গানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য মূলত ব্যক্তিগত অবস্থান, বিবেক এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষেই ছিল।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সরব হওয়ার পর থেকেই রাজকুমারের এই পুরনো কাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও অন্য অংশের মতে, অতীতের রাজনৈতিক প্রচারে অংশগ্রহণ এবং বর্তমান অবস্থানের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। তবে এই বিতর্ক নিয়ে অভিনেতা এখনও নতুন করে কোনও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেননি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?