ইরফান পঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন হার্দিক!!
ভারতীয় ক্রিকেটে সমালোচনা ও প্রশংসা চিরকালই পাশাপাশি চলে এসেছে। কেউ খেললে প্রশংসা, আর ব্যর্থ হলে সমালোচনা—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে অনেক সময় সমালোচনা সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় খেলোয়াড়দের কাছে। সম্প্রতি প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পঠান এমনই এক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা নিয়ে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
ইরফানের দাবি, এক সময়ের ঘটনা, যখন আইপিএলের ধারাভাষ্যে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। সেই সময়েই ভারতের এক ক্রিকেটার নাকি চেয়েছিলেন তাঁকে ধারাভাষ্য থেকে সরিয়ে দিতে। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো রোহিত শর্মা বা বিরাট কোহলির মতো সিনিয়র ক্রিকেটার এই অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ইরফানের মুখে শোনা গেল ভিন্ন নাম—তিনি হলেন হার্দিক পাণ্ড্য।
সাক্ষাৎকারে ইরফান খোলাখুলি জানান, “একজন ক্রিকেটারের সমালোচনা করার মধ্যে কোনও ভুল নেই। মাঠে নামলে আপনাকে তা মেনে নিতেই হবে। সচিন, গাওস্করদের মতো কিংবদন্তিরাও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। আমি কখনও কাউকে খারাপভাবে ছোট করিনি। খারাপ কথা বলা আমার স্বভাব নয়।”
তাঁর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা আসলে খেলারই অঙ্গ। ধারাভাষ্যকারদের কাজই হলো ম্যাচ বিশ্লেষণ করে দর্শকদের সামনে সঠিক চিত্র তুলে ধরা। তিনি বলেন, “আমি যদি ১৪টি ম্যাচে সাতবার সমালোচনা করি, তবে সেটাকে ধৈর্যের প্রমাণ হিসেবেই দেখা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে সেটা খেলোয়াড়দের জন্যও উপকারী।”
ইরফান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি অতীতে বারবার হার্দিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি ২০১২ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তারা হার্দিককে দলে নেয়। কিন্তু তখন দল সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইরফান বলেন, “ভিভিএস লক্ষ্মণ পরে স্বীকার করেছিলেন, তখন আমার কথা না শোনা ভুল হয়েছিল। যদি তারা হার্দিককে দলে নিত, হয়তো আজ আমরা অন্য ছবিই দেখতাম।”
এই ঘটনার ফলে পরিষ্কার বোঝা যায়, সমালোচনার বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা কাজ করে। কেউ সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে নিজের খেলা আরও ভালো করার চেষ্টা করেন, আবার কেউ সেটিকে আক্রমণ হিসেবে গ্রহণ করেন।
ইরফানের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি আবারও মনে করিয়ে দিল, খেলাধুলার মঞ্চে সমালোচনা-প্রশংসা হাত ধরাধরি করে চলে। একজন ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে খেলার চিত্র তুলে ধরা। কিন্তু তা খেলোয়াড়রা কেমনভাবে নেন, সেটাই শেষ পর্যন্ত বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই ঘটনা শুধু ইরফান ও হার্দিকের সম্পর্ক নয়, বরং সমগ্র ক্রিকেট দুনিয়ার জন্যই এক শিক্ষা—সমালোচনাকে যদি সঠিকভাবে গ্রহণ করা যায়, তবে তা উন্নতির সিঁড়ি হয়ে উঠতে পারে। আর যদি তা ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে দেখা হয়, তবে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় অস্বস্তি ও বিরোধের কারণ।