‘অ্যান্টিফা’কে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের হুঁশিয়ারি

মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের হুঁশিয়ারি আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের ঝড় তুললেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্যাসিবাদ বিরোধী অতিবামপন্থী আন্দোলন মঞ্চ *‘অ্যান্টিফা’*কে সরাসরি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, যাঁরা…

September 18, 2025
1 min read

মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের হুঁশিয়ারি

আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের ঝড় তুললেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্যাসিবাদ বিরোধী অতিবামপন্থী আন্দোলন মঞ্চ *‘অ্যান্টিফা’*কে সরাসরি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, যাঁরা এই সংগঠনকে অর্থসাহায্য করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি আমেরিকার দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশে জানাচ্ছি যে অ্যান্টিফা একটি অসুস্থ, বিপজ্জনক এবং অতিবাম বিপর্যয়। এটিকে আমি একটি বড় জঙ্গিগোষ্ঠী হিসাবে ঘোষণা করছি। যাঁরা আর্থিক মদত দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও বিস্তারিত তদন্ত হবে।”

এই ঘোষণার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কিছুদিন আগে আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুলি করে খুন করা হয় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল নেতা চার্লি কির্ককে। কির্কের মৃত্যুর পর থেকেই অতিবামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, অতিবামপন্থীদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্যই আমেরিকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে। ঘনিষ্ঠ নেতার মৃত্যুর পরে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে অতিবামপন্থীরা চার্লির মতো দেশপ্রেমিকদের নাৎসি এবং বিশ্বের ভয়ঙ্করতম অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করে এসেছে। আজ আমেরিকায় যে সন্ত্রাস আমরা দেখছি, তার জন্য এই বক্তব্যগুলোই দায়ী।”

তাহলে ‘অ্যান্টিফা’ আসলে কী? নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যান্টি ফ্যাসিস্টস’। এটি মূলত একটি সামাজিক আন্দোলন মঞ্চ, যার নির্দিষ্ট কোনও কাঠামো বা সদর দফতর নেই। নেতৃত্ব বা সদস্য তালিকারও কোনও আনুষ্ঠানিক রূপ নেই। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখনই স্পষ্টতা নেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ‘অ্যান্টিফা’কে আমেরিকার বাম ও অতিবাম মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষের মিলিত মঞ্চ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

ট্রাম্প অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি ‘অ্যান্টিফা’-কে ঘরোয়া জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। কির্ক খুন হওয়ার পরে এই ভাবনা আরও জোরালো হয়। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর ক্যাবিনেট ও বিচার দফতরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকও প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, “রাজনৈতিক হিংসায় উসকানি দেওয়া বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক পদক্ষেপ করবেন। আজকের এই ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতার অংশ।”

তবে সমালোচকরা বলছেন, যেহেতু ‘অ্যান্টিফা’র কোনও আনুষ্ঠানিক সংগঠন কাঠামো নেই, তাই এটিকে জঙ্গি গোষ্ঠী ঘোষণা করার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। কে ‘অ্যান্টিফা’র সদস্য, কে সমর্থক, আর কে কেবল একই মতাদর্শে বিশ্বাসী— তা আলাদা করা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে, চার্লি কির্কের মৃত্যুর পর আমেরিকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত হলেও, বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট— ‘অ্যান্টিফা’-কে ঘিরে আগামী দিনে আমেরিকার রাজনীতি ও সমাজজীবনে উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *