বিজেপিকে চাপে ফেললেন চিরাগ
বিহারের বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এলজেপি নেতা চিরাগ পাসোয়ান বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে প্রকাশ্যে চাপে ফেললেন। সোমবার তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন, “এনডিএ শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আমাদের দল সম্মানজনক সংখ্যার চেয়ে কম কিছু গ্রহণ করবে না।”
বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও বিজেপি ১০০টি আসনে লড়াই করবে। বাকি আসনগুলো এলজেপি (চিরাগের দল), প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাঝিঁর হিন্দুস্থান আওয়াম মোর্চা (হাম) এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। চিরাগ এই বরাদ্দকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
চিরাগের রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপটও বিষয়টিকে আরও ব্যাখ্যাযোগ্য করে। তাঁর পিতা রামবিলাস পাসোয়ান লালুপ্রসাদ যাদব ও নীতীশ কুমারের সমসাময়িক হলেও জাতীয় রাজনীতিতে বরাবর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। অন্যরা যখন রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতেন, রামবিলাস বারবার জোট বদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে মনোনিবেশ করতেন। ২০২০ সালে রামবিলাসের প্রয়াণের পর চিরাগের নেতৃত্বে এলজেপি অখণ্ডভাবে ভোটে লড়েছিল। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি, বরং নিশানা ছিল নীতীশ কুমারের জেডিইউ। ১৩৪টি আসনে লড়াই করে মাত্র একটিতে জয় পেয়েও দলের ভোট ভাগ সাড়ে পাঁচ শতাংশের বেশি ছিল, যা প্রমাণ করেছিল চিরাগের প্রভাব।
তবে ২০২১ সালের মধ্যপর্বে এলজেপিতে ভাঙন ধরেছিল। সেই সময়ে বিজেপি ও জেডিইউ চিরাগের কাকা পশুপতি পারসকে পাশে রেখেছিলেন। পারসসহ পাঁচ জন সাংসদ পৃথকভাবে অবস্থান নেন। একাই রামবিলাস-পুত্র চিরাগ দলের নেতৃত্বে অবস্থান করেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা পারসের গোষ্ঠীকে ‘রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সেই সময় এনডিএ জোটে পারসকে স্থান দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও চিরাগকে বাদ দিয়ে পারসকে কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী বানান।
কিন্তু চিরাগের জনপ্রিয়তা ও দলিত ভোটবেসে ঝুঁকির কারণে, পরবর্তী লোকসভা ভোটের আগে পারসকে বাদ দিয়ে চিরাগের সঙ্গে জোট করে বিজেপি-জেডিইউ। বরাদ্দ পাঁচটি আসনও চিরাগের গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়, এবং সবটিতেই জয়ী হয় এলজেপি।
এবারও কি চিরাগ একক লড়াইয়ের পথে হাঁটবেন, সে জল্পনা ইতিমধ্যেই বিহারের রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাকি এনডিএ শরিকদের কাছে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অসম্মানজনক শর্তে সমঝোতা গ্রহণ হবে না। বিহারের ভোটভূমিতে চিরাগের কৌশল এবং সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিজেপি-জেডিইউকে নতুন করে কৌশল সাজাতে বাধ্য করতে পারে।
সবমিলিয়ে, চিরাগ পাসোয়ান এখন কেবল নিজের দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন না, তিনি এনডিএ জোটের কৌশলগত সমঝোতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। বিহারের রাজনীতি তাই এই মুহূর্তে আগের তুলনায় আরও উত্তপ্ত এবং জটিল হয়ে উঠেছে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা