নৈহাটির বড় মা
নৈহাটির বড় মা কালীর পুজো এখন দেশের অন্যতম এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রতি বছর দীপাবলির সময়ে এই পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল নামে এই মন্দিরে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশ থেকেও ভক্তরা আসেন বড় মায়ের আশীর্বাদ নিতে। নৈহাটি বড় মায়ের পুজো যেন এক অলৌকিক চমৎকার। একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এই পুজো নিয়ে আবেগ ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশ দেখে বিস্মিত হতে হয়।
বড় মা: ভবেশ কালী থেকে বড় মা হওয়ার ইতিহাস
নৈহাটির এই কালীপুজোর শুরু প্রায় ১০১ বছর আগে। তখন পুজোর নাম ছিল ‘ভবেশ কালী’। ভবতোষ চক্রবর্তী ও তাঁর পাঁচ বন্ধু মিলে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। তখন থেকেই মা কালীর ভক্তেরা এখানে আসতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে এই মা ‘বড় কালী’ নামে পরিচিতি পান, আর আজ সকলের বড় মা।
শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন বড় মায়ের দর্শন করতে। মা কালীর আশীর্বাদ এবং ভক্তদের মানত পূরণের প্রচলিত বিশ্বাস বড় মাকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

সোনার গয়না ও রুপার ঐশ্বর্য
বড় মায়ের অলঙ্কার যেন এক আশ্চর্য সংগ্রহ। বর্তমানে বড় মায়ের গয়নায় রয়েছে প্রায় ১০০ ভরি সোনা এবং ২০০ কেজি রুপো। তবে এই পুজোয় কোনও চাঁদা তোলা হয় না। পুজোর খরচ চালানো হয় মন্দিরে রাখা দান বাক্সে ভক্তদের সাধ্যমতো দানে। ভক্তদের এই শ্রদ্ধা ও দানে বড় মায়ের পূজোর জৌলুস বছরে বছরে বাড়ছে।
কষ্টি পাথরের মূর্তি ও বৈষ্ণব মতে পূজা
বর্তমানে বড় মায়ের পূজোর জন্য একটি স্থায়ী মন্দির তৈরি হয়েছে। এই মন্দিরে কষ্টি পাথরের বড় মায়ের মূর্তি বিরাজিত রয়েছে, যা আরও প্রাচীনতায় ভরা। বড় মায়ের পূজো বৈষ্ণব মতে করা হয়, যেখানে বলি প্রথা নেই। এখানে মা কালীর পূজো হয় শান্তিপূর্ণ ও নিরামিষভোজী নিয়মে, যা ভক্তদের মধ্যে আরও শুদ্ধতার অনুভূতি এনে দেয়।
নৈহাটির সর্বপ্রথম পুজো বড় মায়ের
নৈহাটির ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বড় মায়ের পূজো সব পুজোর মধ্যে প্রথম শুরু হয়। স্থানীয়রা জানায়, বড় মায়ের পূজো সম্পন্ন হলে তবেই অন্য দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। এভাবে নৈহাটির সব পূজোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে আছে এই পুজো।
বড় মায়ের বিসর্জনও শহরের সব পূজোর মধ্যে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়মে শহরের বড় মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়, আর সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে শহরের মানুষ ও ভক্তরা পুজোর সম্পূর্ণ রীতি মেনে চলেন।
শেষ কথা
নৈহাটির বড় মা কালীর পুজো শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বহু ভক্তের বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে যুক্ত। মা কালীর এই পুজোয় মানুষের ঢল প্রমাণ করে, শুধু দৈব শক্তির আশীর্বাদ নয়, বরং এ এক ঐতিহ্য যা যুগ যুগ ধরে নৈহাটির মানুষ রক্ষা করে আসছেন।