অরিজিতের সিদ্ধান্তে নীরব মনখারাপ জিতের!
সিনেমার গানে আর গলা শোনাবেন না— অরিজিত্ সিংহের এই ঘোষণা স্বাভাবিক ভাবেই নাড়িয়ে দিয়েছে সঙ্গীতজগৎ। যাঁরা দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি আরও বেশি আবেগের। সেই তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছেন সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অরিজিতের কণ্ঠ, গায়কি, উচ্চারণ— সব কিছুরই অনুরাগী তিনি। বহু জনপ্রিয় গানে এই দু’জনের যুগলবন্দি শ্রোতাদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তাই অরিজিতের সিদ্ধান্তে খানিক মনখারাপ জিতের, যদিও তাতে অনুযোগ নেই, আছে বোঝাপড়া।
জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত বহু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিত। বাংলা ছবিতে ‘তোর এক কথায়’ যেমন আজও শ্রোতাদের প্রিয়, তেমনই হিন্দিতে ‘খামোশিয়াঁ’-র মতো গান তাঁদের জুটিকে এনে দিয়েছে সর্বভারতীয় পরিচিতি। সেই অরিজিত যখন ছবির গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে— কেন এমন সিদ্ধান্ত?
এই প্রসঙ্গে জিৎ বলেন, আমাদের দেশে সঙ্গীত মানেই যে শুধু ছবির গান, এমনটা নয়। লোকগান, কীর্তন, রাগপ্রধান সঙ্গীত, গজ়ল— সৃষ্টির পরিসর অনেক বিস্তৃত। তাঁর কথায়, “একজন শিল্পীর যদি মনে হয় তিনি আর ছবির গান করবেন না, বরং নন-ফিল্ম মিউজ়িকে মন দেবেন, সেটাও তো সঙ্গীতের জন্যই লাভ। সেটাকে স্বাগত জানানো উচিত।”
তবে ব্যক্তিগত স্তরে যে অরিজিতের অভাব বোধ করবেন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন জিৎ। “ওকে মিস করব, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই,” বলেন তিনি। কিন্তু সঙ্গে যোগ করেন, একজন শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা ও স্বাধীনতা থাকে। “ও এখন নিজেই ছবি তৈরি করছে, গান নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। প্রোগ্রামিং করছে, সুর করছে। নিশ্চয়ই নতুন কোনও দিক খুঁজছে।”
জিৎ মনে করেন, অরিজিত অত্যন্ত সৃজনশীল একজন মানুষ। এই ধরনের শিল্পীরা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তাঁর মতে, “ও হয়তো নতুন কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনও সেটা পাচ্ছে না। তাই আরও গভীরে যেতে চাইছে। আমি যতটা চিনি অরিজিতকে, ও খুব সৎ আর স্পষ্টবাদী। যা ভাল লাগে, যা লাগে না— দুটোই পরিষ্কার করে বলে। তাই নতুন কিছু করতে চাইলে আমি ওকে পুরোপুরি সমর্থন করছি।”
অরিজিতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আলাদা করে তুলে ধরেন জিৎ। স্টুডিয়োয় এসে অরিজিত আগে গানটির কথা মন দিয়ে পড়েন, তারপর সুর শোনেন। কোন শব্দে কতটা জোর দিতে হবে, কোথায় আবেগ ধরে রাখতে হবে— এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তাঁর সহজাত। জিৎ বলেন, “যেমন একজন চিত্রশিল্পী তুলির টানে ছবিতে প্রাণ এনে দেন, অরিজিতের কণ্ঠেও তেমনই মোলায়েম ছোঁয়া থাকে।”
সব মিলিয়ে, অরিজিতের সিদ্ধান্তে আবেগ আছে, মনখারাপও আছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে শিল্পীর প্রতি সম্মান। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশ্বাস, অরিজিত যেদিকেই যান, যা-ই করেন, সেখানেও তিনি নিজের মতো করেই আলো ছড়াবেন।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা