অভিষেকের আমতলার দফতর ভাঙায় আপাতত স্থগিতাদেশ!
আমতলায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। রবিবার ছুটির দিনেও বিশেষ এজলাস বসিয়ে মামলার শুনানি করে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটি যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাই বজায় রাখতে হবে। ফলে নতুন করে আর কোনও ভাঙাভাঙির কাজ করা যাবে না।
তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, প্রশাসন ইতিমধ্যে যে অংশ ভেঙেছে বা পুলিশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আপাতত হস্তক্ষেপ করা হবে না।
এই পাঁচতলা ভবনটি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে নির্মিত। সংস্থাটির অন্যতম ডিরেক্টর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, ভবনটি অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভাঙার নির্দেশ দেয় এবং শনিবার থেকে প্রশাসন অভিযান শুরু করে।
ভবনের একাংশ ভাঙার পর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস। সংস্থার আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, ভবনের মালিককে যথাযথ শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের কপি, ভাঙার নির্দেশের নথি কিংবা পর্যাপ্ত সময়— কোনও কিছুই দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নির্মাণ বেআইনি হলেও প্রথমে মালিককে নিজে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, পুরো নির্মাণটাই বেআইনি। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত নথি রয়েছে এবং মালিকপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। জেলা পরিষদের আইনজীবীও দাবি করেন, অনুমোদিত পরিকল্পনার তুলনায় ভবনের উচ্চতা প্রায় ৬.৫ মিটার বেশি পাওয়া গিয়েছে এবং অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি।
শুনানির সময় বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী প্রশাসনের কাছে জানতে চান, জমির মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথভাবে নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ভাঙার নির্দেশের কপি তাদের হাতে পৌঁছেছিল কি না।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ, ভবনের অবশিষ্ট অংশ আপাতত ভাঙা যাবে না, আবার নতুন কোনও নির্মাণ বা পরিবর্তনও করা যাবে না।
তবে তৃণমূলের তরফে যে অভিযোগ করা হয়েছিল— ভাঙার অভিযানের সময় পুলিশ দফতর থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও নথি নিয়ে গিয়েছে— সেই বিষয়ে আদালত কোনও তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়নি। পুলিশের আগের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে হাই কোর্ট।
প্রসঙ্গত, শনিবার প্রশাসনের অভিযানের সময় ভবনের সামনের অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পরে মূল ভবনের অংশেও বুলডোজার চালানো হয়। রবিবারও ভাঙার কাজ চলছিল। হাই কোর্টের নির্দেশ আসার পর সেই অভিযান বন্ধ হয়ে যায়।
এখন মামলার পরবর্তী শুনানিতে নোটিস, শুনানির প্রক্রিয়া এবং নির্মাণের বৈধতা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখবে আদালত। ততদিন পর্যন্ত অভিষেকের আমতলার দফতর বর্তমান অবস্থাতেই থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?