স্বপ্নপূরণে প্রফুল, প্রথম বলেই টার্গেট ছিল বৈভব!
আইপিএলের মঞ্চে এমন অভিষেক খুব কমই দেখা যায়। একেবারে অচেনা নাম থেকে রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠলেন Praful Hinge। তাঁর পারফরম্যান্স যেন গল্পের মতো—প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে স্তম্ভিত করে দিলেন এই তরুণ পেসার।
সোমবারের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়া তাঁকে খুব বেশি মানুষ চিনতেন না। নিলামে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ‘অজানা’ ক্রিকেটারই আইপিএল অভিষেকে প্রথম ওভারেই তুলে নিলেন তিনটি উইকেট, আর পুরো ম্যাচে চারটি! স্বপ্নের শুরু বলতে যা বোঝায়, ঠিক তাই।
ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অকপট প্রফুল বলেন, তিনি নাকি আগে থেকেই এমন কিছুর পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, “গত বছর কোথাও পড়েছিলাম, প্রথম ম্যাচে নামলে চার-পাঁচটা উইকেট নেব। তখন থেকেই মাথায় ছিল। পাওয়ার প্লে-তেই যতটা সম্ভব চাপ তৈরি করতে চেয়েছিলাম।” নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আর ভাগ্যের উপর বিশ্বাস—এই দুইয়ের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে তাঁর সাফল্যের গল্প।
আরও অবাক করা বিষয়, ম্যাচের শুরুতেই তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটার Vaibhav Suryavanshi। দ্বিতীয় বলেই তাঁকে আউট করে দেন প্রফুল। সেই উইকেটকেই তিনি নিজের সেরা বলে মনে করেন। কারণ, বৈভব তখন দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। প্রফুল জানালেন, প্রথম বল থেকেই বাউন্সার বা কঠিন ডেলিভারি করে তাঁকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন।
প্রফুলের ক্রিকেট যাত্রাও কম চমকপ্রদ নয়। ১৩ বছর বয়সে টেনিস বল ক্রিকেট দিয়ে শুরু। তখন চামড়ার বলের ক্রিকেট সম্পর্কেই ধারণা ছিল না। বাবাকে বারবার অনুরোধ করে অবশেষে এক ক্লাবে ভর্তি হন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর আসল পথচলা। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি।
এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তাঁর পরিবারকে। তাঁদের আত্মত্যাগ এবং সমর্থনই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে জানান প্রফুল। পাশাপাশি কোচদের, বিশেষ করে বোলিং কোচের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে এই পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। মাঝখানে চোট-আঘাতের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। এমআরএফ অ্যাকাডেমিতে পুনর্বাসনের সময় কোচ এবং ফিজিওদের সাহায্যে আবার ফিট হয়ে ওঠেন। সেই পরিশ্রমের ফলই যেন দেখা গেল এই অভিষেক ম্যাচে।
এক ম্যাচেই স্পষ্ট—প্রফুল হিঙ্গে শুধু ক্ষণিকের চমক নন, বরং ভবিষ্যতের বড় তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখেন। এখন দেখার, এই দুর্দান্ত শুরু তিনি কত দূর নিয়ে যেতে পারেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?