অভিষেককে ঘিরে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি?

অভিষেককে ঘিরে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’! বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যেই কালীঘাটে দলের জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন…

May 7, 2026
1 min read

অভিষেককে ঘিরে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’!

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যেই কালীঘাটে দলের জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সূত্রের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত সকল জয়ী প্রার্থীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “লড়াই”কে সম্মান জানাতে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়ার নির্দেশ দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৬ সালের নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের ভিতরে আত্মসমালোচনা, সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল, আই-প্যাকের প্রভাব এবং কর্পোরেট ধাঁচের সংগঠন পরিচালনা নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।

এই পরিস্থিতিতেই বুধবার কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে হাজির ছিলেন মমতা ও অভিষেক দু’জনেই। বৈঠকের মাঝেই মমতা নাকি বলেন, “অভিষেক অনেক লড়াই করেছে, ওকে সম্মান জানাও।” এরপরই উপস্থিত বিধায়ক ও নেতাদের উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে দেখা যায়। সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সমর মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে দলের অন্দরেই এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে খবর। এক জয়ী বিধায়কের কথায়, “হাততালি বসেও দেওয়া যেত। কিন্তু যাঁরা দশকের পর দশক রাজনীতি করছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্বস্তিকর লেগেছে।” যদিও প্রকাশ্যে কেউ এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।

বৈঠকে মমতা আরও স্পষ্ট বার্তা দেন যে, অভিষেকের সমালোচনা দল বরদাস্ত করবে না। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং অসীমা পাত্রকে। সূত্রের খবর, ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসে সাংগঠনিক কাজ দেখার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের ফল নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, “লুট করে” তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। গণনাকেন্দ্র দখল, ইভিএম কারচুপি এবং প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, তিনি বলেছেন, “এটাই আমার প্রতিবাদ।” অভিষেকও সেই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মতে, “জোর করে ক্ষমতাচ্যুত” করার বিরুদ্ধেই এই অবস্থান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পরে তৃণমূলের ভিতরে যে চাপা বিভাজন তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা আরও স্পষ্ট করে দিল। আগামী দিনে বিরোধী আসনে বসে দল কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *