অফিসেই ঝরবে বাড়তি ওজন!
আজকের দিনে ব্যস্ত কর্মজীবন অনেকেরই সঙ্গী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ, মিটিং, সময়সীমার ভেতরে কাজ শেষ করার তাড়া—সব মিলিয়ে নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়ার সময়ই মেলে না। জিমে যাওয়া বা নিয়মিত ব্যায়াম করার ইচ্ছে থাকলেও তা বাস্তবে রূপ পায় না। কিন্তু জানেন কি? দিনের ৯-১০ ঘণ্টা অফিসে বসে থেকেও সহজ কিছু নিয়ম মানলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন
একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই কাজের মাঝেই অল্প সময়ের বিরতি নিন। পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান, একটু স্ট্রেচিং করুন অথবা করিডর দিয়ে হেঁটে আসুন। এতে কেবল ক্যালোরি খরচই হবে না, রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে, মনও সতেজ হবে।
হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলুন
অফিসে কাজের ফাঁকে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে হয় প্রায়ই। এই অভ্যাসটাকেই কাজে লাগান। চেয়ারে বসে না থেকে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলুন। এতে অল্প হলেও শরীর নড়াচড়া করবে, আর প্রতিদিন জমতে থাকা ক্যালোরি ধীরে ধীরে কমবে।
সিঁড়ির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন
লিফটে চড়লে সময় বাঁচে ঠিকই, কিন্তু শরীরের কোনও উপকার হয় না। যদি কয়েক তলা ওঠার মতো শক্তি থাকে, তবে অভ্যাস করুন সিঁড়ি ব্যবহার করার। সিঁড়ি ভাঙা একটি কার্যকর কার্ডিও এক্সারসাইজ, যা ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে।
জল খাওয়া ভুলবেন না
অফিসে কাজ করতে করতে অনেকেই জল খেতে ভুলে যান। কিন্তু শরীরের সঠিক বিপাকের জন্য পর্যাপ্ত জল অত্যন্ত জরুরি। কম জল খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কাজের ফাঁকেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে ফোনে রিমাইন্ডার সেট করে নিতে পারেন।
খাবারে সতর্ক থাকুন
অফিসের ব্যস্ততার মধ্যে অনেকেই পিৎজা, বার্গার বা রোল অর্ডার করে খেয়ে নেন। নিয়মিত এই অভ্যাসই কিন্তু ওজন বৃদ্ধির বড় কারণ। তাই যতটা সম্ভব ভাজাভুজি ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন। এর বদলে ফল, বাদাম, মাখানা বা ড্রাই ফ্রুটস রাখুন টেবিলে। এগুলো শুধু স্বাস্থ্যকর নয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরতি রাখতেও সাহায্য করে।
শেষকথা
জিমে যাওয়ার সময় না পেলেও অফিসে বসে থেকেই শরীরচর্চা করা সম্ভব। ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন—যেমন হাঁটাচলা বাড়ানো, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া—ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। ব্যস্ত কর্মজীবন চলবে নিজের গতিতে, তবে শরীরের যত্ন নিলেই পাওয়া যাবে সুস্থ, সক্রিয় জীবন।
বাচ্চার পছন্দের বার্গার ও পিৎজ়া, তবে স্বাস্থ্যকর করে কেমন করে তুলবেন?