ভিসেরা পরীক্ষায় মিলবে নতুন সূত্র
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের অকালমৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে পুকুর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরিবার শুরু থেকেই খুনের অভিযোগ তুলেছে।
লালবাজারের গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পড়েছেন। জানা গিয়েছে, অন্তত ১৩ জন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন তাঁরা, যারা শেষ সময়ে অনামিকার সঙ্গে ছিলেন। বৃহস্পতিবার আরও সাত জন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের লক্ষ্য—সেদিনের ঘটনাগুলি ধাপে ধাপে পুনর্গঠন করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে মোট তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। গোয়েন্দারা সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তবে যেখানে অনামিকাকে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে কোনও ক্যামেরা ছিল না। ফলে সরাসরি ঘটনার ভিডিও মেলেনি। পুলিশ সূত্রের খবর, ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদেরও বয়ান রেকর্ড করা হবে। শুধু পড়ুয়া নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী এবং শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি জুতো অনামিকার বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। শুক্রবার আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অনামিকার বাবা সেই জুতো শনাক্ত করবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনামিকার পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে যে এটি আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। তাঁদের অভিযোগ, অনামিকাকে জোর করে পুকুরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ভিত্তিতেই খুনের মামলা রুজু করেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার আগে অনামিকা একাই পুকুরের কাছে শৌচাগারের দিকে গিয়েছিলেন। তার পর কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন ধোঁয়াশা। মৃত্যুর আসল কারণ জানার জন্য বৃহস্পতিবার ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—ঘটনার সময় অনামিকা কি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন? ভিসেরা রিপোর্টেই সেই উত্তর মিলবে।
অনামিকার মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে ঠিক কারা ছিলেন, সেই বিষয়টিও পুলিশের নজরে। প্রতিটি বয়ান সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার ক্রমপুঞ্জি দাঁড় করাতে পারলেই বোঝা যাবে, অনামিকা কীভাবে পুকুরে পড়লেন।
এখনও পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন এত বড় ঘটনা ঘটলেও, কেন আশেপাশের কেউ কিছু টের পেল না? আর যদি সত্যিই খুন হয়ে থাকে, তবে কারা সেই ষড়যন্ত্রে জড়িত? পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট—এই দুই মিলেই সামনে আসতে পারে সত্যিটা।
অনামিকার অকালমৃত্যু কেবল তাঁর পরিবার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মধ্যেও গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তদন্ত এগোচ্ছে ধাপে ধাপে, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে প্রশ্ন—এক তরুণীর জীবন কেড়ে নেওয়া এই রহস্যমৃত্যুর পেছনে আসল কাহিনি কী?
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ