অনুপম রায়
রবিবার কলকাতায় গান গাইতে আসছেন ব্রায়ান অ্যাডামস, একজন বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, যাঁর কণ্ঠ ও সুরে সারা পৃথিবী মুগ্ধ। এমন এক শিল্পীর অনুষ্ঠান এর আগে কলকাতায় খুব একটা হয়নি, এবং এবার সেই সুযোগ মিলেছে কলকাতার শ্রোতাদের। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কলকাতার খ্যাতনামী ব্যক্তিত্ব থেকে সাধারণ শ্রোতা, সবারই উপস্থিত থাকার কথা। তার আগে, নিজে একজন শিল্পী হিসেবে, কলম ধরলেন অনুপম রায়।
ব্রায়ান অ্যাডামসের গান ও কণ্ঠের প্রতি অনুপ্রাণিত অনুপম রায় তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। তিনি জানান, ভারত এখন বিদেশি সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য এক নতুন বাজার হয়ে উঠেছে। প্রতি মাসে অনেক আন্তর্জাতিক শিল্পী এসে সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। এমনকি কিছু শিল্পী প্রতি বছর দুই-তিনবারও এখানে আসছেন। তবে, অনুপম রায় স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত পপুলার এবং রক সঙ্গীতেরই অনুসারী, যদিও সঙ্গীতের যে বিশালতা রয়েছে, তাতে জ্যাজ, টেকনো, ক্লাসিক্যাল কিংবা হিপহপ—সব ধরনের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ রাখা কঠিন।
অন্যদিকে, অনুপম রায় ভারতের বিদেশি শিল্পীদের আগমনের প্রসঙ্গে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সঙ্গীত শিল্পীরা আসছেন, যেমন ডুয়া লিপা, মেরুন ফাইভ, এবং এক্সট্রিম—এরা সবাই ব্যবসায়িকভাবে সফল। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখানে বড় কনসার্টের আয়োজন করা কঠিন, কারণ এমন বিশাল ভেন্যু এখানে নেই যেখানে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারে। এটি সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় সমস্যা, কারণ সঙ্গীতশিল্পী এবং আয়োজকদের জন্য এ ধরনের কনসার্ট আয়োজনের খরচ অনেক বেশি।
কিন্তু কলকাতার সংস্কৃতির সঙ্গে বিদেশি সঙ্গীতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে অনুপম রায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, বাঙালি শ্রোতাদের মাঝে অনেকেই ব্রায়ান অ্যাডামসের কনসার্টে উপস্থিত থাকতে চাইবেন, কিন্তু বেশিরভাগই হয়তো ফ্রি পাসের জন্য চেষ্টা করবেন। এটি যেন সমাজের একটি চিত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে অনেকের কাছে বিনোদনের জন্য খরচ করার প্রমাণ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে, বিয়ের অনুষ্ঠানে যে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা দেখে অবাক হতে হয়। তবে, তিনি মনে করেন যে, কলকাতার কিছু শ্রেণী এমনভাবে বাঙালি সংস্কৃতিকে দেখতে চায়, যে তারা কেবল রবীন্দ্রসঙ্গীত কিংবা বাউল গান শোনার আশা রাখে, কিন্তু ব্রায়ান অ্যাডামসের মত শিল্পী তাঁদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া, অনুপম রায় ব্রায়ান অ্যাডামসের কণ্ঠস্বর এবং সঙ্গীতের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অ্যাডামসের কণ্ঠ ‘অদ্বিতীয়’ এবং এটি সহজেই তাঁকে চার দশক ধরে সঙ্গীতজগতে টিকিয়ে রেখেছে। তিনি যে প্রেমের গান লেখেন, তার মধ্যে যে একটি বিশেষ আবেদন রয়েছে, তাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তাঁর ‘সামার অফ সিক্সটি নাইন’, ‘রান টু ইউ’ এবং ‘লেটস মেক আ নাইট টু রিমেম্বার’ গানগুলির মধ্যে অদ্ভুত এক যৌন আবেদন রয়েছে, যা কখনোই অশ্লীল মনে হয় না। এর মধ্যে থাকে এক ধরনের কোমলতা, যা অনুপম রায়ের মতে, অনেক ভারতীয় গানের চেয়ে অনেক বেশি প্রাকৃতিক ও মানবিক।
ভারতে ব্রায়ান অ্যাডামসের জনপ্রিয়তা নিয়ে অনুপম রায় বলেন, “এটি সত্যিই একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে, এত গরম দেশে সবাই ‘সামার অফ সিক্সটি নাইন’ গানটির প্রতি এত আগ্রহ দেখাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ব্রায়ান অ্যাডামস ৮০-৯০ দশকে যেভাবে ভারতীয় শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন, তা এখনও অবিকৃত রয়েছে। তাঁর গানগুলি আমাদের যৌবনের সময়কার সুরকে ধারণ করেছে, যা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এভাবে, অনুপম রায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, ব্রায়ান অ্যাডামসের গানের গভীরে এক বিশেষ আবেদন রয়েছে, যা তাঁর শ্রোতাদের মনে এক আলাদা জায়গা তৈরি করেছে, আর তা কখনোই অশ্লীল কিংবা জোরাজুরি মনে হয়নি।