অঙ্কুশকে ঘিরে উন্মত্ত মহিলা ভক্তদের ভিড়!
চতুর্থীর রাতে শহরের এক প্রেক্ষাগৃহে যেন সিনেমার বাইরে আরেক সিনেমা! নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রক্তবীজ ২’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে জড়ো হয়েছিলেন টলিউডের তারকারা। কিন্তু লাল পাড় শাড়ি, পাঞ্জাবি আর আলোঝলমলে আড্ডার মাঝেই ঘটে গেল এক হুলস্থুল কাণ্ড— অঙ্কুশ হাজরাকে দেখেই ভক্তদের উন্মত্ততায় আহত হলেন ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার জিনিয়া সেন।
প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশের আগেই ছিল উত্তেজনার পারদ চড়া। ছবির মুক্তির দিন যে কোনও অভিনেতার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ, সেই চিন্তা নিয়েই ছিলেন কাঞ্চন মল্লিক ও আবীর চট্টোপাধ্যায়। কাঞ্চন নাকি এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন যে প্রেক্ষাগৃহের ভেতর ঢুকতেও ভয় পাচ্ছিলেন! আর আবীরের মতে, ছবির রিলিজের দিনটা যেন আবার পরীক্ষার ফল ঘোষণার মতো।
প্রিমিয়ারের মঞ্চে ছিলেন টলিউডের মহারথী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়েও তিনি আশাবাদী। ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’ হিসেবে তিনি জানালেন, “আমি সব প্রেক্ষাগৃহে যাব, সব ছবির সঙ্গেই থাকব।” এদিন তিনি পরিচালক শিবপ্রসাদকে জড়িয়ে ধরেন— যা ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত।
এই আবেগের আবহেই প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করেন ছবির খলনায়ক অঙ্কুশ হাজরা, ওরফে ‘মুনির আলম’। আর তাঁকে দেখেই শুরু হয় কাণ্ড। একঝাঁক মহিলা ভক্ত ছুটে যান তাঁর দিকে। ধাক্কাধাক্কির ভিড়ে জখম হন কাহিনিকার জিনিয়া। কব্জিতে হাত বোলাতে বোলাতে তিনি বলেন, “অঙ্কুশকে দেখেই মেয়েরা ঝাঁপিয়ে পড়ল। মাঝখানে আমি পড়ে গেলাম, হাত ফুলে গিয়েছে।”
এই উন্মাদনায় হেসে ফেলেন অঙ্কুশ নিজেও। তাঁর কথায়, “নন্দিতাদি-শিবুদার ছবির এটাই ম্যাজিক!” প্রতিদ্বন্দ্বী ছবি ‘রঘু ডাকাত’-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমাদের মধ্যে কোনও লড়াই নেই। আমরা চাই সব ছবিই সফল হোক, তবেই তো বাংলা সিনেমা এগোবে।”
প্রিমিয়ারের লাল রঙের ড্রেসকোড মেনে হাজির ছিলেন ছবির সব অভিনেতা-অভিনেত্রী। বনির হাত ধরে আসেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়, উপস্থিত ছিলেন অনসূয়া মজুমদার, কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা কুমার, গায়িকা ইমন চক্রবর্তী এবং সত্যম ভট্টাচার্যও।
প্রেক্ষাগৃহে প্রবল উচ্ছ্বাসের আরেকটি কারণ ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তিনি আসেন বাবার হাত ধরে। হাসতে হাসতে বলেন, “মা এখন হিমাচলে, তাই বাবা-ই আমার সঙ্গী।” মিমি জানালেন, ছবির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক, আর তিনি বেশ আশাবাদী।
এর কিছুক্ষণ পরেই আসেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরত জাহান। তাঁর নাচে ভরপুর গান ‘অর্ডার ছাড়া বর্ডার’ ইতিমধ্যেই দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রিমিয়ারের মঞ্চ থেকেই তিনি সবাইকে জানান, “শারদীয়ার অনেক শুভেচ্ছা।”
সব মিলিয়ে, চতুর্থীর রাতটা শুধুই একটি সিনেমার মুক্তির সন্ধ্যা ছিল না— ছিল এক উত্তেজনা, উন্মাদনা ও আবেগে ভরা উৎসব। ‘রক্তবীজ ২’-এর প্রিমিয়ারে একদিকে যেমন নতুন ছবির আশায় বুক বাঁধলেন শিল্পীরা, অন্যদিকে তারকাদের ঘিরে দর্শকের উন্মাদনা প্রমাণ করল, বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা আজও ঠিক ততটাই প্রবল। আর সেই উন্মাদনার জেরেই তৈরি হল এক স্মরণীয় রাত, যার গল্প থাকবে অনেক দিন ধরে।
পুজোর সময়ে কিউআর কোড স্ক্যানের আগে সতর্ক থাকুন: সাইবার প্রতারণা এড়ানোর টিপস