ভারতে ভোট দিতে না-পারার আক্ষেপ ইমরান খানের!
ভারতকে নিজের দেশ বলেই মনে করেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ছোটবেলা থেকে মুম্বইয়ে বড় হওয়া এই অভিনেতার ভারতীয় শিকড়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কিন্তু জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক হওয়ায় ভারতে ভোট দেওয়ার অধিকার নেই তাঁর। অতীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে সেই আক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন ইমরান। এমনকি, আমেরিকার নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরনো সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইমরান
২০১১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর আশা ছিল, শীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। ভারতকে নিজের দেশ বলে মনে করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের জন্য কিছু করাকে নিজের দায়িত্ব বলেও মনে করতেন অভিনেতা।
এর আগে ২০০৯ সালের একটি সাক্ষাৎকারে আমেরিকার নাগরিকত্বের কথা জানিয়েছিলেন ইমরান। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার নির্বাচনে বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ না-পাওয়ার আক্ষেপও লুকিয়ে রাখেননি তিনি।
২০১৩ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেছিলেন, “ভারতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারাটা যথেষ্ট হতাশাজনক।” তবে ভোটাধিকার না-থাকলেও অন্য ভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। অন্তত ২০ জনকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে পারলেও নিজের অবদান রয়েছে বলে মনে হবে, এমনটাই ছিল তাঁর বক্তব্য।
প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার পর দেশ ছাড়ার নির্দেশ
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান। ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত ওই কর্মসূচি থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সে দিনই ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
এর পরেই ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। মুম্বই পুলিশের মাধ্যমে ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এই নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর। ভারতীয় নাগরিক না হয়েও প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ওসিআই কার্ড থাকলেও ভোটাধিকার নেই
আমেরিকায় পড়াশোনা করার সময় ইমরানের বাবা অনিল পাল এবং মা নুজ়হত খানের সন্তান হিসাবে তাঁর জন্ম হয়। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর মাত্র তিন বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে চলে আসেন তিনি। সেখানেই বড় হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী সময়ে বলিউডে পরিচিতি পাওয়া।
বর্তমানে ইমরানের আমেরিকার নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তাঁর ওভারসিজ় সিটিজ়েনশিপ অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডও রয়েছে। তবে ওসিআই কার্ড ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল্য নয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ভারতে বসবাস ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা মিললেও দেশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া যায় না।
এ দিকে, দেশ ছাড়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ইমরান। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ওসিআই কার্ডধারী হিসাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।