সর্দি-কাশি কিছুতেই সারছে না, রাতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট? মরসুমি সংক্রমণ নাকি হাঁপানি, চিনবেন কী ভাবে?

সর্দি-কাশি কিছুতেই সারছে না, রাতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট? মরসুমি জ্বর, সর্দি-কাশির দাপট বাড়লে শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু ঠান্ডা লাগার পরেও কাশি দীর্ঘ দিন ধরে চললে, রাতে শ্বাস নিতে…

October 9, 2026
1 min read

সর্দি-কাশি কিছুতেই সারছে না, রাতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট?

মরসুমি জ্বর, সর্দি-কাশির দাপট বাড়লে শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু ঠান্ডা লাগার পরেও কাশি দীর্ঘ দিন ধরে চললে, রাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে কিংবা বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ শোনা গেলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলি হাঁপানির লক্ষণও হতে পারে। তাই সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ আর হাঁপানির উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে বাবা-মায়েদের সতর্ক থাকা জরুরি।

কেন শ্বাস নিতে সমস্যা হয়?

ফুসফুসে বাতাস পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য সূক্ষ্ম শ্বাসনালি রয়েছে। হাঁপানির ক্ষেত্রে এই নালিগুলিতে প্রদাহ হয় এবং চারপাশের পেশি সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে পড়ে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি বাড়ে এবং বুকের ভিতর থেকে সাঁই সাঁই শব্দ বেরোতে পারে।

সাধারণ সর্দি-কাশির সময়ও শ্বাসনালিতে শ্লেষ্মা জমে সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ আবার আগে থেকে হাঁপানিতে আক্রান্ত শিশুর উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু কাশি বা জ্বর দেখে হাঁপানি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। প্রয়োজন চিকিৎসকের পরামর্শ।

কোন লক্ষণগুলি খেয়াল করবেন?

শিশুর সর্দি-কাশি সহজে সারছে না, বার বার কাশি হচ্ছে কিংবা রাতের দিকে সমস্যা বাড়ছে কি না, সে দিকে নজর রাখা দরকার। হাঁপানির ক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণ বিশেষ ভাবে দেখা যেতে পারে।

  • শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া।
  • রাতে বা ভোরের দিকে কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া।
  • দৌড়ঝাঁপ, সিঁড়ি ভাঙা বা সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা।
  • বার বার একই ধরনের কাশি বা শ্বাসকষ্ট ফিরে আসা।
  • শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকের পেশিতে টান পড়া বা অস্বস্তি হওয়া।

তবে এই লক্ষণগুলি থাকলেই হাঁপানি হয়েছে, এমন নয়। চিকিৎসক শিশুর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?

শিশুর শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হলে, বুকের খাঁচা ভিতরের দিকে ঢুকে যেতে থাকলে, কথা বলতে বা খেতে অসুবিধা হলে কিংবা ঠোঁট ও জিভ নীলচে হয়ে গেলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এগুলি শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি বা গুরুতর শ্বাসকষ্টের লক্ষণ হতে পারে।

শিশুর বার বার শ্বাসকষ্ট হলে বা কাশি দীর্ঘ দিন স্থায়ী হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে ইনহেলার, অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনও ওষুধ শুরু করবেন না।

অ্যালার্জি ও সংক্রমণেও সতর্কতা প্রয়োজন

ধুলো, ধোঁয়া, দূষণ এবং কিছু অ্যালার্জির উপাদান হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলি সমস্যা বাড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকাকরণ সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

সর্দি-কাশি হলেই হাঁপানি হয়েছে, এমন ভাবার কারণ নেই। তবে বার বার শ্বাসকষ্ট, রাতের কাশি এবং বুকের সাঁই সাঁই শব্দ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *